
কখনো আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যাচ্ছে। মেঘ ঢেকে দিচ্ছে সূর্যটাকে। কখনো ঝিরিঝিরি। কখনো আবার ভারী বৃষ্টি। মধ্য আশ্বিন মাসেও এখন প্রকৃতি যেন এভাবেই বর্ষার রূপ চরিত্র ধরে রেখেছে। মাঝেমধ্যেই আবার উঁকি দিচ্ছে রোদ।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির এই ধারা সহজে কমবে না। বরং আরও বাড়তে পারে। আগামীকাল শুক্রবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আজ বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাতের প্রবণতা একটু কম থাকলেও মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় ৪ অথবা ৫ অক্টোবর থেকে আবারও সারা দেশে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। এটি আগামী ৮ বা ৯ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, মৌসুমি বায়ু এবং লঘুচাপের প্রভাবে এখন বৃষ্টি হচ্ছে। এখন যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, এই ধারা সহজে কমছে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গতকাল ভোর ছয়টা থেকে আজ ভোর ছয়টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে ৫৫ মিলিমিটার। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২৪, নেত্রকোনায় ৪, সন্দ্বীপে ৪, রাঙামাটিতে ১০, মাইজদিকোটে ১১, হাতিয়ায় ১১, কুতুবদিয়ায় ৮ এবং খুলনায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর প্রদেশে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে কয়েক দিন ধরে। সেখানে দিনে ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণ মৌসুমি বায়ু অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ভারত থেকে আসা বৃষ্টির পানি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, পাবনা ও রাজশাহী জেলায় হঠাৎ বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।