বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন প্রকৃতির রানি

কৃষ্ণচূড়া ফুলের মধু খাচ্ছে বেগুনি মৌটুসি পাখি
ছবি: লেখক

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বৃক্ষশোভিত প্রতিষ্ঠান। অনেক দুর্লভ গাছ আছে এখানে। সারা বছর কিছু না কিছু ফুল এসব গাছে ফুটতেই থাকে। বৈচিত্র্যময় দুর্লভ বৃক্ষরাজি এ বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছে বিশেষত্ব।

পালামগাছে এ বছর ফুল এসেছে প্রচুর। লালচে রঙের এই ফুল অনেক দূর থেকেও চোখে পড়ে। এর পাপড়ি ভারী। পাঁচটি পাপড়িতে ফুলের গঠন সম্পন্ন হয়। এ গাছের মধু যে পাখিও খায়, তা জানা ছিল না। দেখলাম পালামগাছের মধু খাচ্ছে কাঠশালিক। ক্যামেরা হাতেই ছিল বলে ছবি তুলতে পেরেছি। কয়েকটি কাঠশালিক একসঙ্গে মধু খাচ্ছিল এক ফুল থেকে আরেক ফুলে। আরেকটি বিষয় উল্লেখ করার মতো। ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পালামগাছটির ফুলে ফুলে ভিড় জমিয়েছে মৌমাছি, মধু খেতে তারা বুঁদ হয়ে আছে। পালাম ফুল বাতাসে দুলতে থাকলে দেখতে আরও ভালো লাগে। পালামগাছ রংপুর অঞ্চলে আছে কি না, জানা নেই। তবে এ গাছের বৃদ্ধি ও দারুণ ফুল ফোটা দেখতে পারা আনন্দের।

কয়েকটি কুরচিগাছে এ বছর ফুল ফুটেছে। মিষ্টি সবুজ পাতা আর সাদা ফুলের সৌন্দর্য দেখতে বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়। আমি যখন চারা কিনেছিলাম, তখন ঢাকার একটি নার্সারিতে ‘হৈমন্তী’ ফুলের চারা বলে প্রায় আড়াই হাজার টাকা নিয়েছিল। বলেছিল, চারাটি ভারত থেকে আনা হয়েছে। পরের বছর একটি চারা সাত শ টাকায় কিনেছিলাম। তারও পরে মাত্র ৬০ টাকায় কিনেছি কুরচির চারা। গাছজুড়ে কুরচি ফুল যখন ফোটে, তখন গাছ কেনার বৃত্তান্ত আর মুখ্য বলে মনে হয় না। সৌন্দর্যটাই বড় হয়ে দেখা দেয়। ফুলটির মিষ্টি গন্ধ আছে।

ক্যাম্পাসে রূপ ছড়াচ্ছে লালসোনাইল

এ বছরও লালসোনাইল ফুটেছে। এ বছর তিনটি গাছে ফুটেছে লালসোনাইল। এ গাছ তিনটিতে প্রচুর ফুল ফুটেছে। গাছটির লম্বা লম্বা ডাল চারদিকে ছড়িয়ে যায়। আর ডালের সমান লম্বা অংশ জুড়ে ফুল ফোটে। লম্বাটে অংশজুড়ে ফুল বিস্তৃত হয়। লালসোনাইল বলা হলেও প্রধানত গোলাপি রঙের বাহার।
অনেকে লালসোনাইল ফুল পেছনে কিংবা পাশে রেখে ছবি তুলছেন। ক্যাম্পাসের তো বটে, ক্যাম্পাসের বাইরেরও অনেকে আসছেন লালসোনাইল ফুল দেখার জন্য। ফুল ছাড়া এ গাছের গঠনও দৃষ্টিনন্দন।

দুর্লভ পালাম ফুল ফুটেছে তিনটি গাছে

স্বর্ণচাঁপা ফুটছে কয়েক বছর ধরে। যেখানে স্বর্ণচাঁপা ফোটে, সেখানে মধুর ঘ্রাণ ছড়ায়। সবুজ গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে হলুদ স্বর্ণচাঁপা। ক্যাম্পাসে বনআসরা ফুল ফোটার আয়োজন চলছে। এই ফুলও বেশ দুর্লভ। আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়া আর কোথাও এ ফুল দেখিনি। চন্দ্রপ্রভা ফুলের দুটি গাছ আছে। গাছগুলো ছোট অবস্থায় লতানো মনে হয়েছিল। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছের রূপ পাচ্ছে। প্রচুর হলুদ ফুল ফোটে এ গাছে।

গ্রীষ্মকালে লালসোনাইল, পালাম, স্বর্ণচাঁপা, সমুদ্রজবা ফুল ছাড়াও ক্যাম্পাসকে বর্ণিল করে রাখে জারুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু। ইতিমধ্যে কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও সোনালু ফুটতে শুরু করেছে। লালবাগ থেকে মডার্ন মোড়ে যাওয়ার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালে দীর্ঘ সারি ধরে কেবল জারুল আর জারুল। জারুলের এত দীর্ঘ সারি কম আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজের দিকে আছে জারুল সড়ক। এই সড়কের দুই পাশে প্রচুর জারুল ফোটে। জারুলের একটি ছোট বাগানও আছে। ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কের দুই ধারে কৃষ্ণচূড়া আগুনরঙা হয়ে ওঠে। উপাচার্যের বাসভবনে কৃষ্ণচূড়া ব্যাপকভাবে ফুটেছে। সোনালু সোনারং ছড়াতে শুরু করেছে। কোনো কোনো গাছে সোনালু এমনভাবে ফোটে যে ওই স্থান হলুদ হয়ে যায়।

পুষ্পিত জারুলের দীর্ঘ সারি ক্যাম্পাসকে বিশেষ সৌন্দর্য দান করেছে

নাগলিঙ্গম, কুম্ভী, সুলতানচাঁপা, পাদাউক এখনো ফোটেনি। এসব ফুল দেখার অপেক্ষায় আছি। শিক্ষার্থীরা অনেকে ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিচ্ছে। অনেকে দিচ্ছে ছবি। গ্রীষ্মে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে পুষ্পিত উদ্যান।

  • তুহিন ওয়াদুদ, অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর