
রোদ আর মেঘের খেলা—রাজধানীতে তেমনটা চলছিল কয়েক দিন হলো, বিশেষ করে সকালের দিকে। রাতে কিছুটা শীতল হয়ে যাওয়া বায়ু সকালের তাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়েই মেঘের মতো সৃষ্টি হয়, আবহাওয়াবিদেরা তা–ই বলেন। সেই মেঘ দেখে কখনো কখনো তাই তাপে পুড়ে যাওয়া নগরবাসী আশায় বুক বেঁধেছিলেন, বৃষ্টি নামবে। তা তো হয়ইনি, বরং মেঘভাঙা রোদ তাপ বাড়িয়েছে বেশি মাত্রায়।
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জনপদ বৈশাখের রোদে পুড়েছে। কবিগুরু যাকে বলেছেন ‘রুদ্র বৈশাখ!’ বৈশাখ সত্যিই তার রুদ্র রূপ দেখাচ্ছে কয়েক দিন ধরে, বিশেষ করে এ নগরীতে, যেখানে থাকেন দুই কোটির মতো মানুষ।
সেই তাপ কমিয়ে আজ রোববার সকাল থেকে একটু একটু করে জমাট হওয়া মেঘ বিকেলের দিকে অন্ধকার করে ফেলে চতুর্দিক। তারপর বিদ্যুতের চমক, মেঘের ভয়ানক গর্জন। আর তাপ কমানো বৃষ্টি।
অবশ্য বেলা দুইটার পর আকাশ অন্ধকার হয়ে এসেছিল। একটু পর অবশ্য কালো মেঘ কাটিয়ে আবার সেই রোদের মুখ নগরবাসীকে বিলক্ষণ পীড়া দিয়েছে। সেই প্রহেলিকা শেষ হয় বিকেলের দিকে। চারটির দিক থেকে আবার মেঘ জমে।
বিকেল পাঁচটার দিকে এ আকাশ কালো হয়ে আসে। তারপর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এ প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর থেমে থেমে মেঘডাকার শব্দ। যদিও তা অনেকটাই কমে এসেছে। সেই সঙ্গে কমেছে রাজধানীর তাপমাত্রা, অনেকটা। একেবারে শীতল করেছে পরিবেশ।
‘এই বৃষ্টির খুব দরকার ছিল’
রাজধানীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মার্জিয়া তানিয়া। অফিস শেষ করে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় যখন নিচে নামলেন, বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে বাস পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয় তাঁকে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও গণপরিবহন না পেয়ে কিছুটা ভিজেছেনও তিনি।
তবে এটুকু ভোগান্তি হাসিমুখেই মেনে নিয়েছেন মার্জিয়া তানিয়া; বলছিলেন , ‘অনেক দিন ধরেই বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিলাম। আজ বৃষ্টি আসায় বেশ স্বস্তি পেলাম। বাস পেতে বা যাতায়াতে কিছুটা কষ্ট হলেও মনের ভেতর একধরনের স্বস্তি কাজ করছে। এই বৃষ্টির খুব দরকার ছিল।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নাজিবা রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাসা থেকে বের হয়ে ক্লাসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরপরই বৃষ্টি শুরু হলো। বৃষ্টির কারণে শেষ পর্যন্ত ক্লাসটাই বাতিল হয়ে গেছে। এখন আবার এই বৃষ্টির মধ্যে মাঝপথ থেকে বাসায় ফিরে যেতে হচ্ছে।
কতটা কমেছে তাপমাত্রা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীরের দেওয়া তথ্য, বেলা ৩টায় আজ রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা ৬টার পর তা হয়েছে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
যে বৃষ্টি-জাদুতে এই তাপ কমল, তা কতটুকু ঝরেছে রাজধানীতে? আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য, ৩২ মিলিমিটার।
আজ রাতে বৃষ্টির আর বেশি সম্ভাবনা নেই বলেই জানান তরিফুল নেওয়াজ কবীর। তিনি বলছিলেন, ঢাকার আকাশের মেঘ মাওয়া ও জাজিরার দিকে চলে গিয়ে সেখানে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে।
বৃষ্টি কিন্তু মোটামুটি গতকাল রাত থেকেই শুরু হয়েছে উত্তরের জেলা রংপুরসহ আশপাশের কিছু এলাকায়। সকালের দিকেই আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক ও আফরোজা সুলতানা বলছিলেন, রংপুরের এই মেঘ ধীরে ধীরে ময়মনসিংহ ও রাজশাহীর দিকে সরতে পারে। এর একটি অংশ রাজধানী বা এর আশপাশেও আসতে পারে।
সেই পূর্বাভাস সত্যি হলো, বৃষ্টি হলো। তাপ গেল আপাতত। আপাতত বলতেই হচ্ছে। কেননা বৈশাখী বৃষ্টির ধরনই এমন। প্রচণ্ড গরমের পর প্রবল বৃষ্টি হবে। তাতে হঠাৎই তাপমাত্রা কমে যাবে। এর রেশ থাকবে খানিকটা সময়জুড়ে। কিন্তু সময়টা তো গ্রীষ্মের। তাই গরম আবার ফিরবে।
আবহাওয়া অফিস অবশ্য বলছে, আগামীকাল বিকেলেও বৃষ্টি ঝরতে পারে এ নগরীতে। আসলে এ মাসের প্রায় পুরোটা সময়জুড়ে থেমে থেমে এভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তাই দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই।