গতকাল দুপুরে রাজধানীতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। রাজারবাগ এলাকা। ২০ মার্চ
গতকাল দুপুরে  রাজধানীতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। রাজারবাগ এলাকা। ২০ মার্চ

ঢাকাসহ ৪ বিভাগের নানা স্থানে বৃষ্টি, রাজধানীতে বিকেলে বৃষ্টির পূর্বাভাস

রাজধানী ঢাকার আকাশ আজ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সকাল থেকে মেঘলা। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হয়েছিল গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার পর। সেই থেকে আকাশ মেঘলা। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ সকাল থেকে বৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি ছিল না। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকাসহ চার বিভাগের নানা স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়।

আজ বিকেলের দিকে রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আগে থেকেই জানিয়েছিল, ঈদের দিন বৃষ্টি হতে পারে। আজ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়, ১৮ মিলিমিটার।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে মাদারীপুরে ৩ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ২ মিলিমিটার এবং ঢাকায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের নানা স্থানে বৃষ্টি হয়েছে।

তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, চার বিভাগের প্রায় প্রতিটি স্টেশনে বৃষ্টি হয়েছে। তবে এর পরিমাণ ছিল সামান্য। কিন্তু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আকাশ মেঘলা আছে। রাজধানীতে আজ বিকেলের দিকে বৃষ্টি হতে পারে। আগামীকাল রোববার থেকে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করবে। পরশু সোমবার দেশের সবখানের আকাশই পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, উপমহাদেশজুড়ে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বৃষ্টিবলয় তৈরি হয়েছে, যা আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হয়ে ভারতের ভেতর পর্যন্ত বিস্তৃত।

এই বিস্তৃত বৃষ্টিবলয়ের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অন্তত রোববার পর্যন্ত দেশের কয়েকটি বিভাগে কমবেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, উপমহাদেশজুড়ে তৈরি হওয়া এই বৃষ্টিবলয়ের প্রভাব বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মার্চের শেষ দিকে সাধারণত যে বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন ঘটে, এবার তা ঠিকমতো হয়নি। আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক গতকাল বলেন, এমন মেঘবলয় সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মধ্য মার্চে দেখা যায়। কিন্তু চলতি মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত প্রায় ছিল না, ফলে এখন পশ্চিমা লঘুচাপের এই সক্রিয়তা কিছুটা অস্বাভাবিক। মার্চ–এপ্রিল সাধারণত বজ্রঝড়ের সময়। এ সময় এই মেঘবলয় তাই কিছুটা অস্বাভাবিক।