সন্তানকে স্কুলে দিতে গিয়ে ভিজে একশা হয়েছেন প্রতীক বর্ধন। তিনি থাকেন মগবাজারের মধুবাগে। আর ছেলেটি পড়ে ইস্কাটনের একটি স্কুলে। সকাল আটটায় ক্লাস শুরু। তার আগে রিকশাযোগে স্কুলে যেতেই বিপত্তি শুরু হলো।
রিকশা হাতে গোনা। সেখানে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ভিড়। একটা রিকশা জোগাড় হলেও বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা মিলল না। রিকশায় পলিথিন ছিল না। ঝোড়ো হাওয়া মাঝেমধ্যেই উড়িয়ে নিচ্ছিল মাথায় ধরা ছাতা। আর তাতে বৃষ্টির পানি এসে পড়ছিল গায়ে। সন্তানকে স্কুলে দিয়ে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে আসতে গিয়ে প্রতীক আরেক দফা ভিজলেন।
রাজধানীতে আজ বুধবার সকাল থেকেই বৃষ্টি। আকাশের কালো মেঘ অন্ধকার করে রেখেছে চারদিক। এ যেন আষাঢ়-শ্রাবণের দিন। এ বৃষ্টির কারণ হিসেবে বজ্রমেঘ ও সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির কথা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃষ্টি শুধু রাজধানীতেই নয়, হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আবহাওয়া অফিস গতকাল মঙ্গলবার সকালেই পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ সময় কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাও হবে বলে জানায় তারা। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কার কথাও জানানো হয় পূর্বাভাসে।
৪৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলেই তাকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়। রাজধানীতে রাত থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নয়। কিন্তু মেঘলা আকাশ আর মাঝেমধ্যে মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে সকাল থেকেই। সকাল পৌনে ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও বৃষ্টি হচ্ছিল। মাঝেমধ্যে দমকা হাওয়ার দাপট।
এমন বৈরী প্রকৃতির মধ্যে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থী, অফিস বা কর্মস্থলগামী মানুষ। রাজধানীর কিছু স্থানে জমেছে বৃষ্টির পানি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, আজ রাজধানীতে এ অবস্থা চলতে পারে দিনভর। হয়তো মাঝেমধ্যে বৃষ্টি কমে যেতে পারে তারপর আবার শুরু হতে পারে। বেলা ১১টার পর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ একটু কমতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী না–ও হতে পারে।
কেন এই বৃষ্টি
আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকালই দেশের সব বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ বৃষ্টির কারণ হিসেবে আবহাওয়া অফিস বলেছিল, দেশের ভেতরেই বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে। আর এ বজ্রমেঘই বৃষ্টি ঝরাবে অন্তত ৯৬ ঘণ্টা।
আবার আবহাওয়ার বার্তায় সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির কথাও বলা হয়েছে।
এখন এই বৈশাখ মাসে যে ঝোড়ো হাওয়া বা বৃষ্টি হয়, তা কালবৈশাখী নামে পরিচিত। কালবৈশাখীর বৈশিষ্ট্য হলো, ঘন কালো মেঘ করে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হবে; আর তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কিন্তু রাজধানীতে গতকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি কেন?
এ প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, দেশের ভেতরে যে গভীর সঞ্চরণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে তা সরতে সময় নিচ্ছে। একটি সিস্টেম তৈরি হয়েছে সাগরে, এরও প্রভাব আছে। এ সময় এটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এখন টানা বৃষ্টি হবে না। থেমে থেমে বৃষ্টি হবে। মাঝেমধ্যে আকাশ পরিষ্কার হতে পারে। পরে তা আবার চলতে পারে।
কোথায় কতটুকু বৃষ্টি হলো
বজ্রমেঘের দাপটে শুরু হওয়া বৃষ্টি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ১৬১ মিলিমিটার। এটাই গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র। ভোলা জেলায় এ সময় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১৫১ মিলিমিটার। আর ফেনীতে বৃষ্টি হয়েছে ১৪৮ মিলিমিটার। ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তা অতি ভারী বৃষ্টি বলে গণ্য করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এ বৃষ্টি একটানা বা একযোগে সব স্থানে হবে, তা নয়। ইতিমধ্যে ভোলা ও খুলনা অঞ্চলে মেঘ কিছুটা কেটেছে। রাজধানীতে বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশ থাকতে পারে দিনজুড়েই। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ কাটলেও একেবারে রোদেলা আকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বিকেলের দিকে বৃষ্টি একটু কমতে পারে।