বিশ্বের ১১৯ নগরীর মধ্যে আজ সোমবার সকালে বায়ুদূষণে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকার বায়ুর মান ছিল ৩৩২। বায়ুর এই মানকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ স্তর এটি।
নগরী ও এর আশপাশের পাঁচ স্থানে আজ বায়ুর মান অস্বাভাবিক খারাপ। তবে আজ খুলনার বায়ুর মান রাজধানীর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ—৫৩৭। রাজধানী লাগোয়া একটি স্থানে আজ দূষণের মান ৬০০ ছাড়িয়েছে।
বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।
বায়ুদূষণের মান ২০০-এর বেশি হলে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়; আর ৩০০ হয়ে গেলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে গণ্য করা হয়।
ঢাকার বায়ুদূষণ ভয়াবহভাবে বাড়ছে। বায়ুদূষণে ২০১৯ সালে দেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় দেশজ উৎপাদনের ক্ষতি প্রায় ৮ শতাংশ বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সরকারের সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কিন্তু সেসবে কোনো কাজ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঢাকা বা দেশের অন্য কোনো স্থানে দূষণ পরিস্থিতির উন্নতি চোখে পড়ার মতো হয়নি। নতুন সরকার দূষণ রোধে কী করতে পারে?
রাজধানী ও এর সংলগ্ন পাঁচ স্থানে ভয়াবহ দূষণ
রাজধানী ও এর সংলগ্ন স্থানে আজ ভয়াবহ দূষণ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দূষণ হেমায়েতপুরে, বায়ুর মান ৬৬৭। অন্য চার স্থানের মধ্যে আছে নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড (৪২৯), সাগুফতা (৩৪৮), গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটার (৩৩৪) ও দক্ষিণ পল্লবী (৩৩২)।
দেশের সর্বত্রই বায়ুদূষণ বাড়ছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে আজকাল ঢাকার বাইরের অন্যান্য এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি থাকছে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যেসব কার্যক্রম আছে, তা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। তবে এসব কার্যক্রমের তেমন কোনো ফল নেই।