বিতর্কিত সেই জাহাজভাঙা কারখানার ইজারা বাতিল

বন বিভাগের জমি জাহাজভাঙা শিল্প এলাকার জন্য ইজারা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সীতাকুণ্ডের তুলাতুলী এলাকায়
 ফাইল ছবি

উচ্ছেদ অভিযানের পর এবার সীতাকুণ্ডের সলিমপুর উপকূলের সেই বিতর্কিত জাহাজভাঙা কারখানার ইজারা বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর নু এমং মারমা মং কোহিনূর স্টিল নামের ইয়ার্ডটির ইজারা বাতিল করে।

সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম জেলা প্রশাসন কোহিনূর স্টিল নামের ইয়ার্ডটির ইজারা বাতিল করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি সলিমপুর উপকূলে কোহিনূর স্টিলকে ৫ একর ভূমি ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। এই ইজারা নিয়ে তখন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বন বিভাগের আপত্তি সত্ত্বেও বনের জায়গায় এই ইজারা দেওয়া হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে উপকূলীয় গাছপালা ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে। তখন জেলা প্রশাসক ছিলেন মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। এক বছরের মাথায় এসে তা বাতিল করলেন বর্তমান জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

গত সোমবার ইয়ার্ডটিতে অভিযান চালিয়ে সেখানে নির্মিত স্থাপনা আংশিক উচ্ছেদ করা হয়। একই স্থানে আরও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে সেদিন জানিয়েছিল জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক ফখরুজ্জামান সোমবার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘ইজারায় স্থাপনা করার কোনো অনুমতি ছিল না। তারা স্থাপনা করেছে। তা আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। সোমবার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফোন করে বিষয়টি আমাকে জানালে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইজারাও বাতিল করা হবে।’

রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর নু এমং মারমা মং প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিসি স্যারের আদেশ আমি পালন করেছি। কোহিনূর স্টিল ইয়ার্ডটি ইজারার শর্ত ভঙ্গ করেছে। তাই বাতিল করা হয়েছে।’

এই ইয়ার্ডের মালিক কোহিনূর বেগম। তাঁর স্বামী আবুল কাসেম ওরফে রাজা কাসেম মূলত ইয়ার্ড ব্যবসা পরিচালনা করেন। ২০১৯ সালে আবুল কাসেম বিবিসি স্টিল ইয়ার্ডের নামে একই স্থানে ৭ দশমিক ১০ একর জায়গা ইজারা পেয়েছিলেন। পরে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে রিট করলে তা বেআইনি ঘোষণা করা হয়। এরপর স্ত্রীর নামে আবার আবেদন করেন।

বনের জায়গা এভাবে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় ‘প্রথমে ব্যর্থ পরে কৌশলে ইজারা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।