বায়ুদূষণে বৃহস্পতিবার বিশ্বের ১১৯ নগরীর মধ্যে ২১১ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ঢাকা। বায়ুর এ মানকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। ঢাকার পাঁচ স্থানে আজ দূষণ পরিস্থিতি খুব খারাপ। আর ঢাকার চেয়ে পাশের শহর গাজীপুরের দূষণ অনেক বেশি।
গত জানুয়ারি মাসের প্রায় পুরো সময় ধরে বায়ুদূষণে বিশ্বের নগরীগুলোর মধ্যে প্রথম দিকে থাকত ঢাকা। চলতি মাসেও একই অবস্থা।
বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয়, সতর্ক করে। আজ ঢাকার বায়ুদূষণের যে অবস্থা, তা থেকে রক্ষা পেতে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছে আইকিউএয়ার।
বায়ুদূষণের মাত্রা ২০০-এর বেশি হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। আর ৩০০ হয়ে গেলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে গণ্য হয়।
দেশের সর্বত্রই বায়ুদূষণ বাড়ছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে আজকাল ঢাকার বাইরের অন্যান্য এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি থাকছে। আজ গাজীপুরের বায়ুর মান ২৯০।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যেসব কার্যক্রম আছে, তা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। তবে এসব কার্যক্রমের তেমন কোনো ফল নেই।
বায়ুদূষণে আজ বিশ্বের নগরগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, স্কোর ২২০।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের স্থানীয় উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। এসব উৎস নিয়ন্ত্রণে আদৌ সেভাবে কোনো চেষ্টা হয়নি। উপমহাদেশীয় দূষিত বায়ুপ্রবাহের চেয়ে সেগুলোই প্রাধান্যশীল।
ঢাকার বায়ুদূষণের উৎসগুলোর মধ্যে আছে যানবাহন ও কলকারখানার দূষিত ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালু, বিভিন্ন দ্রব্য পোড়ানোর কারণে সৃষ্টি ধোঁয়া, ইটভাটা।
ঢাকার ৫ স্থানে বায়ুর মান খুব খারাপ
আজ সকালে ঢাকার পাঁচ স্থানের বায়ুর মান খুব খারাপ। স্থানগুলো হলো নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড (২৫৩), হেমায়েতপুর (২৩৫), মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং (২২৯), দক্ষিণ পল্লবী (২১৮) ও ধানমন্ডি (২০৩)।
দেশে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বিভিন্ন সময় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখনো নানা উদ্যোগ-কথাবার্তা শোনা যায়। কিন্তু বায়ুদূষণ পরিস্থিতি দিন দিন খারাপই হচ্ছে।
সুরক্ষায় নগরবাসী যা করবেন
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে।