দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

ন্যাশনাল ব্যাংকের ৯০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক রন হক সিকদারসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়।

দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানান, সংস্থার উপপরিচালক জি এম আহসানুল কবীর বাদী হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করেন। মামলায় ঘটনার সময়কাল ধরা হয়েছে ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর।

এজাহার অনুযায়ী, সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকার সময় ‘ভুয়া ও জালিয়াতির’ মাধ্যমে তৈরি করা সাব-কন্ট্রাক্ট অ্যাগ্রিমেন্ট দেখিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড থেকে ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের নামে ৬০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করা হয়। সুদ ও অন্যান্য মাশুল যুক্ত হয়ে এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জালাল খান মজলিশ ও পরিচালক খাদিজা আক্তার ন্যাশনাল ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় হিসাব খোলেন। হিসাব খোলার দিনই বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি প্রকল্পের কাজের অজুহাতে তিন বছর মেয়াদি ওডি ঋণ হিসেবে ৬০০ কোটি টাকার আবেদন করা হয়। তদন্তে দুদক দাবি করেছে, ঋণের পক্ষে দাখিল করা সাব-কন্ট্রাক্ট অ্যাগ্রিমেন্ট ভুয়া।

দুদক জানায়, নীতিমালা অনুসরণ না করে দ্রুত বোর্ড মেমো তৈরি করে ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদনের পর ধাপে ধাপে বিতরণের শর্ত উপেক্ষা করে ২০১৯ সালের ২৩ থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে মাত্র সাত দিনে ৫৯৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। পরে ২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি ও ৮ মার্চ আরও ৩৫ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৫২৫ কোটি টাকা ৩৭টি বেয়ারার চেকের মাধ্যমে নগদে উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ, ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক রন হক সিকদার, পারভীন হক সিকদার ও মনোয়ারা সিকদার; ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনালের আহমেদ জালাল খান মজলিশ ও খাদিজা আক্তার; ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দিলকুশা শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুর রহমান, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আরীফ মো. শহীদুল হক, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী মোসতাক আহমেদ (সি এম আহমেদ), সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ওয়াদুদ, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি এ এস এম বুলবুল, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু রাশেদ নওয়াব, পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন, খলিলুর রহমান ও মাবরুর হোসেন। ১৫

এ ছাড়া আসামির তালিকায় আরও রয়েছেন ক্রিস্টাল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সালাহ উদ্দীন খান মজলিশ ও আব্দুর রউফ; বেঙ্গল ও এম সার্ভিসেসের মালিক জন হক সিকদার; মেসার্স মাহবুব এন্টারপ্রাইজের মালিক সৈয়দ মাহবুব-ই-করিম; সিকোটেক হোল্ডিংস লিমিটেডের মো. মাহফুজুর রহমান ও মো. শফিকুল ইসলাম; টেক ইনটেলিজেন্স লিমিটেডের মো. জামিল হুসাইন মজুমদার; এম এস কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপার্সের মোহাম্মাদ সালাহ উদ্দীন; জুপিটার বিজনেস শিলের মমতাজুর রহমান এবং জুপিটার বিজনেস লিমিটেডের মোসফেকুর রহমান ও কৌশিক কান্তি।