
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ‘জজ মিয়া’ সাজিয়ে কারাবাসে রাখা মো. জালাল ওরফে জজ মিয়া ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন। আজ সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করা হয়। এর আগে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে রিটের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়।
ওই মামলায় বিনা অপরাধে মো. জালালকে চার বছর কারাগারে রাখায় তাঁর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে উল্লেখ করে গত ১১ আগস্ট স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ১১ ব্যক্তি বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। এতে তাঁকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়। মো. জালাল ওরফে জজ মিয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির ও মোহাম্মদ কাউছার ওই নোটিশ পাঠান। এর জবাব না পেয়ে আজ রিটটি করেন মো. জালাল ওরফে জজ মিয়া।
পরে রিট করার বিষয়টি জানিয়ে আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির প্রথম আলোকে বলেন, শুনানির জন্য রিটটি যাতে কার্যতালিকায় আসে, সে জন্য আগামীকাল বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
রিট থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ওই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২০০৫ সালের জুনে জজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলায় তাঁকে জজ মিয়া সাজিয়ে কারাবাসে রাখা হয়। ২০০৯ সালের জুনে তিনি মুক্তি পান। কোনো দোষ ছাড়াই তাঁকে প্রায় চার বছর কারাগারে রাখা হয়।
বেআইনিভাবে জজ মিয়াকে কারাবাসে রাখার জন্য তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক খোদা বকশ চৌধুরী, তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রশীদ, মুন্সী আতিকুর রহমান ও সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির দায় আছে কি না, তা নিরূপণে আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। একই সঙ্গে জজ মিয়ার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ায় লুৎফুজ্জামান বাবর, খোদা বকশ চৌধুরী, আবদুর রশীদ, মুন্সী আতিকুর রহমান, রুহুল আমিন বা অন্য কোনো ব্যক্তি দায়ী হলে তাঁদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। এ জন্য লুৎফুজ্জামান বাবর, খোদা বকশ চৌধুরী, আবদুর রশীদ, মুন্সী আতিকুর রহমান ও মো. রুহুল আমিনের স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা আদালতে দাখিলের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।
রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক খোদা বকশ চৌধুরী, তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রশীদ, মুন্সী আতিকুর রহমান ও সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও মতিঝিল থানার ওসিসহ ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে দলের নেতা-কর্মীসহ ২২ জন নিহত হন। শুরু থেকেই এ গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়। প্রথমে শৈবাল সাহা পার্থ, পরে আওয়ামী লীগ নেতা মোখলেসুর রহমানকে ফাঁসাতে না পেরে নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে ধরে আনা হয় মো. জালালকে। তাঁকে দীর্ঘদিন রিমান্ডে রেখে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে একটি সাজানো জবানবন্দি আদায় করা হয়।