
সাতক্ষীরা জেলা ছিল ‘বি’ শ্রেণিতে, এটিকে ‘এ’ শ্রেণির জেলায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন পায়।
এ সিদ্ধান্তের পর অনেকেরই জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে—দেশের জেলাগুলোকে কোন বিবেচনায় ও যোগ্যতায় শ্রেণিবিন্যাস করা হয়, কোন জেলা কোন শ্রেণিতে রয়েছে এবং শ্রেণিভুক্ত হওয়ার ফলে জেলাগুলো কী কী সুবিধা পায়।
জেলা শ্রেণিবিন্যাস-সংক্রান্ত এই কাজের মূল দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে খোঁজ নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে।
কিসের ভিত্তিতে
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, আট বা তার বেশি উপজেলা থাকা জেলাকে ‘এ’ শ্রেণি, পাঁচ থেকে সাতটি উপজেলা থাকা জেলাকে ‘বি’ শ্রেণি এবং চার বা তার কম উপজেলা থাকা জেলাকে ‘সি’ শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া অবস্থানগত কারণে যেসব জেলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোকে বিশেষ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে এসব শর্তের বাইরেও সরকার বিশেষ বিবেচনায় কোনো জেলাকে নির্দিষ্ট শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
সাতক্ষীরার উন্নতি কেন
সাতক্ষীরা জেলা এত দিন ‘বি’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ জেলায় সাতটি উপজেলা রয়েছে। উপজেলা সংখ্যার বিবেচনায় জেলাটি ‘বি’ শ্রেণিতেই থাকার কথা। তবে বিশেষ বিবেচনায় এবার জেলাটিকে ‘এ’ শ্রেণিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ শ্রেণির জেলা থেকে ‘এ’ শ্রেণির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
নিকারের সভার সিদ্ধান্ত জানাতে গত মঙ্গলবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সাতক্ষীরায় সুন্দরবন রয়েছে। ভোমরা স্থলবন্দর এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। সাতক্ষীরা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। এসব বিবেচনায় জেলাটিকে ‘এ’ শ্রেণির জেলা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
শ্রেণিভেদে সুবিধাভেদ
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শ্রেণি অনুযায়ী সরকার জেলাগুলোতে বরাদ্দসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেয়। সরকারি দপ্তরগুলোতে জনবল নিয়োগও হয় এই শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে। উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ত্রাণ বরাদ্দও করা হয় জেলার শ্রেণির বিবেচনায়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২০ সালের ৬ আগস্ট একটি পরিপত্রের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলার শ্রেণি হালনাগাদ করা হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন বিভাগ সৃষ্টি সম্পর্কিত ১৯৮৩ সালের মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী এটি করা হয়।
ওই পরিপত্র অনুযায়ী ‘এ’ শ্রেণির জেলা ছিল ২৬টি, ‘বি’ শ্রেণির ২৬টি এবং ‘সি’ শ্রেণির ৬টি। এ ছাড়া অবস্থানগত কারণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি জেলা বিশেষ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নিকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলা ‘এ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। ফলে ‘এ’ শ্রেণির জেলা হবে ২৭টি এবং ‘বি’ শ্রেণির জেলা হবে ২৫টি।
বিশেষ শ্রেণির ছয় জেলা
ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ জেলা বিশেষ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
‘এ’ শ্রেণির জেলা
কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, কুমিল্লা, রাঙামাটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কক্সবাজার, বগুড়া, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, রংপুর, বাগেরহাট, যশোর, বরিশাল, পটুয়াখালী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা। এর সঙ্গে এখন সাতক্ষীরা যুক্ত হবে।
‘বি’ শ্রেণির জেলা
মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী, বান্দরবান, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, জামালপুর ও শেরপুর।
‘সি’ শ্রেণির জেলা
মাদারীপুর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, মেহেরপুর, নড়াইল ও ঝালকাঠি।