বিপিএইচসিডিওএ– এর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য দেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ১৬ আগস্ট
বিপিএইচসিডিওএ– এর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য দেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ১৬ আগস্ট

আইন উপদেষ্টার বক্তব্যে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের প্রতিবাদ, ব্যাখ্যা দিলেন উপদেষ্টা

চিকিৎসকদের নিয়ে করা আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ)। একই সঙ্গে ওই বক্তব্য পুনর্বিবেচনা ও ব্যাখ্যা করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ রোববার এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিপিএইচসিডিওএর সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক এ এম শামীম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন হলে বিপিএইচসিডিওএর নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল চিকিৎসকদের নিয়ে আপত্তিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে বিপিএইচসিডিওএ গভীর হতাশা প্রকাশ করছে ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা নিরলসভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকেরা কোভিড-১৯ ও ডেঙ্গুর মতো মহামারিতে মানুষের সেবা নিশ্চিত করেছেন। এ অবস্থায় আইন উপদেষ্টার এমন মন্তব্য চিকিৎসকদের সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগকে হেয় করেছে এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতি জনসাধারণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

জুলাই অভ্যুত্থানে চিকিৎসকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত স্বৈরাচারী সরকারের অত্যাচার-নির্যাতন ও রক্তচক্ষু উপক্ষো করে জুলাই-২৪ অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবায় এ দেশের চিকিৎসকেরা আত্মনিয়োগ করেছেন। জীবনের নিরাপত্তাঝুঁকি ও জীবননাশের ভয় থাকার পরও ছাত্র–জনতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমন আত্মত্যাগী চিকিৎসকদের সম্পর্কে আইন উপদেষ্টার বক্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর ও নিন্দনীয়।

বক্তব্যের প্রতিবাদে ওজিএসবির আলটিমেটাম

আইন উপদেষ্টার দেওয়া ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি)। সংগঠনটি উপদেষ্টাকে অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার ও চিকিৎসকদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ১৮ আগস্ট এক দিনের জন্য প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি। রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম ও সদস্যসচিব ডা. মুসাররাত সুলতানা এ ঘোষণা দেন।

আইন উপদেষ্টার ব্যাখ্যা

এদিকে আজ রোববার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে চিকিৎসকদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। যা হুবহু তুলে ধরা হলো—

আসিফ নজরুল বলেন, ‘গতকাল একটি অনুষ্ঠানে ডাক্তারদের সম্পর্কে আমি কিছু কথা বলেছিলাম। প্রথমে রোগী হিসেবে আমার ভালো অভিজ্ঞতার কথা বলেছি। তারপর অন্যদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জানা কিছু সমালোচনার কথাও বলেছি। সেখানে আমি বলেছি, এই সমালোচনাগুলো সব ডাক্তারদের জন্য প্রযোজ্য না। বলেছি, অনেক ডাক্তার আছেন ভালো, কিন্তু অন্য অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগও আছে। কিছু অভিযোগ স্টেটমেন্ট আকারে বলেছি, কিছু প্রশ্ন আকারে। পত্রপত্রিকা যখন এগুলো ছাপিয়েছে, তখন আমার সম্পূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেনি। ফলে কারও কাছে মনে হতে পারে যে রোগীর কথা মন দিয়ে না শোনা, বেশি টেস্ট করতে দেওয়া বা ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ—আমি এসব অভিযোগ ঢালাওভাবে সব ডাক্তারদের সম্পর্কে করেছি। কিন্তু এটি ঠিক নয়। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাচ্ছি, আমার এসব অভিযোগ একশ্রেণির ডাক্তারদের বিরুদ্ধে, সব ডাক্তারদের বিরুদ্ধে না।

আমার বক্তব্য যেভাবে কিছু পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে, মনে হতে পারে অভিযোগগুলো সবার উদ্দেশে করা। প্রচণ্ড ত্যাগ, সততা আর দক্ষতা নিয়ে এ দেশের যে বিপুলসংখ্যক ডাক্তার রোগীদের সেবা করেন, তাঁদের কাছে এটি গভীর মনোবেদনার কারণ হতে পারে। এমন ডাক্তার ভাইবোনদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে কিছু ডাক্তারের (তাঁরা সংখ্যায় কম হতে পারেন) ক্ষেত্রে এসব অভিযোগ সত্যি কি না, তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধও আপনাদের কাছে করে গেলাম।’