মোয়াজ্জেম হোসেন
মোয়াজ্জেম হোসেন

চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে যেতে চান আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম

স্পাইনাল কর্ডের (মেরুরজ্জু) চিকিৎসা করাতে থাইল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেন।

তবে শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ আবেদনটি নামঞ্জুর করেন। এ সময় আদালতে মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খালিদ হোসাইন।

মোয়াজ্জেমের আইনজীবী মো. রায়হান তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অবমুক্ত করে এক মাসের বিদেশ গমনের অনুমতি প্রদানের আবেদন করেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই পিটিশন মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। মূলত তিনি কোনো প্রকার আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।

আবেদনে আরও বলা হয়, মোয়াজ্জেম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে চ্যালেঞ্জ করবেন এবং এ বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁর জাতীয় পরিচয়য়পত্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তা অবমুক্ত করে বিদেশ গমনের অনুমতি প্রদান করা একান্ত আবশ্যক। এ ছাড়া তিনি পড়ে গিয়ে স্পাইনাল কর্ডে আঘাত পান এবং সেখান থেকে ফ্লুইড বের হয়ে যায়। তাঁর চিকিৎসার জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য তাঁর বিদেশ গমনের অনুমতি প্রদান করা একান্ত আবশ্যক।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৪ মে একই আদালত মোয়াজ্জেম হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করে তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। সে সময় দুদকের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদবির, টেন্ডার–বাণিজ্যসহ অনিয়মের মাধ্যমে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক কার্যালয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে অভিযোগের বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন হওয়ায় তাঁর বিদেশে যাওয়া এবং এনআইডি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করা হয়।

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের এপিএস হিসেবে মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এপিএস পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। গত বছরের ২২ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারি করে মোয়াজ্জেম হোসেনকে এপিএসের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।