হাইকোর্ট ভবন
হাইকোর্ট ভবন

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নকল পাবে কি না, শুনানি মুলতবি

ফৌজদারি মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির প্রত্যয়িত অনুলিপি (নকল) আসামি পাবে কি না—সে বিষয়ে শুনানি ২৫ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ।

বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার ওই সময় পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম।

আদালতে আবেদনকারী লিপন পাটোয়ারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওবায়দুর রহমান তারেক।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টে লিপন পাটোয়ারী ২০২১ সালে আবেদনটি করেছিলেন। তাতে জবানবন্দির প্রত্যয়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছিল। ওই মামলার (হত্যা মামলার) কার্যক্রমও ইতিমধ্যে এগিয়ে গেছে। এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে কিংবা মামলাটি নিষ্পত্তি (বিচারিক আদালত রায়) হয়ে গেছে। এখন রুল (হাইকোর্টের ২০২১ সালের ৯ মার্চ দেওয়া রুল) শুনানি চলবে কি না—বিষয়টি সামনে এসেছে। এটা রেফারেন্স, এই রেফারেন্সটা (রুল শুনানিবিষয়ক বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো রেফারেন্স) চলবে কি না, নাকি মামলাটিই যেহেতু শেষ হয়ে গেছে, রেফারেন্সটা আর চলবে না—এই প্রশ্ন এসেছে। আদালত ২৫ জুন পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন। মামলা নিষ্পত্তি হলেও রেফারেন্সের শুনানি চলবে কি না—এই প্রশ্নে সেদিন শুনানি হবে।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, ২০২০ সালের ৪ জুলাই নাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি খুন হন। এ ঘটনায় কুমিল্লার লাকসাম থানায় করা হত্যা মামলায় আসামি লিপন পাটোয়ারী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দির সার্টিফাইড কপি (প্রত্যয়িত অনুলিপি) চেয়ে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন আসামি। এতে বিফল হয়ে কুমিল্লার দায়রা আদালতে আবেদন করেন লিপন। এই আবেদন নামঞ্জুর হয়। এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ২০২১ সালে একটি আবেদন (ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১-এ ধারায়) করেন ওই আসামি।

আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৯ মার্চ হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির প্রত্যয়িত অনুলিপি চেয়ে আসামির করা আবেদন খারিজের আদেশ কেন বাতিল হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

এরপর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রুল শুনানির জন্য ওঠে। এতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে আসে। এ অবস্থায় হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন। তাতে ‘মোবারক হোসেন ওরফে জুয়েল বনাম দ্য স্টেট’ (২০ বিএলডি ৪২২) শীর্ষক এক মামলায় এর আগে হাইকোর্টের দেওয়া সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়। মোবারক হোসেন ওরফে জুয়েল বনাম দ্য স্টেট মামলায় হাইকোর্ট সিদ্ধান্তে উল্লেখ করেছেন যে পুলিশ প্রতিবেদন দায়েরের আগে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দির কপি আসামি পাওয়ার অধিকারী নন, তাতে তদন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন ও হাইকোর্টের ওই সিদ্ধান্তের (২০ বিএলডি ৪২২) প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রুল শুনানি হওয়া সমীচীন উল্লেখ করে দ্বৈত বেঞ্চটি ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন। প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করার কথাও বলা হয় এই আদেশে। পরবর্তী সময়ে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি শুনানির জন্য তিন বিচারপতির সমন্বয়ে বেঞ্চ গঠন করে দেন। তিন সদস্যের বেঞ্চে আজ বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে।