অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা

১৮ উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে, কমেছে ৩ জনের, সবার সম্পদ কোটি টাকার বেশি

সবচেয়ে বেশি সম্পদ বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা সব উপদেষ্টার সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। ১৮ জন উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে। কমেছে ৩ জনের।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করে। তাতে গত অর্থবছর, অর্থাৎ গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পদের হিসাবের ক্ষেত্রে মোট পরিসম্পদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা মূলত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সমষ্টি। তবে কার কত জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং ব্যাংকে জমা ও নগদ টাকা রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় প্রার্থীদের সম্পদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হয়।

দায়িত্ব ছাড়ার আগে উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা আশা করছেন, নতুন সরকারের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সম্পদের বিবরণী নিয়মিত প্রকাশ করবেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ওই দিনই পালিয়ে ভারতে যান শেখ হাসিনা। এরপর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের উপদেষ্টারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন তাঁরা নির্ধারিত বেতন–ভাতা ছাড়াও অন্যান্য সরকারি সুবিধা পেয়েছেন।

দায়িত্ব ছাড়ার আগে উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা আশা করছেন, নতুন সরকারের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সম্পদের বিবরণী নিয়মিত প্রকাশ করবেন।

প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার, এক বছরে বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

সবার সম্পদ কোটি টাকার বেশি

উপদেষ্টা পরিষদে এখন থাকা ২১ জনের সবার কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করা দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম (প্রায় ১৩ লাখ) ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার (১৫ লাখের বেশি) সম্পদ কোটি টাকার কম।

সবচেয়ে সম্পদশালী বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। ব্যবসায়ী এই উপদেষ্টার সম্পদ প্রায় ৯২ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

এরপরে রয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তাঁর সম্পদ রয়েছে ১৬ কোটি ২৩ লাখ টাকার।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি।

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের প্রায় ১১ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

বর্তমানে উপদেষ্টা পদে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে কম সম্পদ প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি টাকার মতো।

প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার ইত্যাদি কারণে তাঁর মোট সম্পদ বেড়েছে।

সম্পদ বেশি বেড়েছে যাঁদের

সম্পদ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চার উপদেষ্টার। তাঁরা হলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার ও অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তাঁদের সম্পদ কোটি টাকার বেশি বেড়েছে।

অধ্যাপক ইউনূসের ১ কোটি ৬১ লাখ, আদিলুর রহমান খানের ১ কোটি ৫৪ লাখ, বিধান রঞ্জনের ১ কোটি ৩৬ লাখ ও ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ বেড়েছে।

তৌহিদ হোসেন, সি আর আবরার, শেখ বশিরউদ্দীন, আলী ইমাম মজুমদারের সম্পদ বেড়েছে ৫২ থেকে ৬২ লাখ টাকা পর্যন্ত।

শারমীন এস মুরশিদ, এম সাখাওয়াত হোসেন, আ ফ ম খালিদ হোসেন, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, ফারুক–ই–আজম, ফরিদা আখতার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সম্পদ বেড়েছে ১৩ থেকে ২৯ লাখ টাকা পর্যন্ত।

মাহফুজ আলম (সাবেক উপদেষ্টা), সালেহউদ্দিন আহমেদ ও নূরজাহান বেগমের সম্পদ বেড়েছে ৪ থেকে ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের ১ কোটি ১৩ লাখ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রায় ১২ লাখ ও সুপ্রদীপ চাকমার ১৬ লাখ টাকার সম্পদ কমেছে।

সরকার থেকে প্রকাশ করার সম্পদের হিসাবের সঙ্গে উপদেষ্টাদের কারও কারও ব্যাখ্যাও রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার ইত্যাদি কারণে তাঁর মোট সম্পদ বেড়েছে।

ব্যাংক আমানত থেকে পাওয়া মুনাফা, ডেভেলপার (আবাসন) কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি থেকে আয় ইত্যাদি কারণে মোট সম্পদ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

আদিলুর রহমান খান জানিয়েছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে গৃহসম্পত্তি ও কৃষি সম্পত্তি পাওয়ায় ‘নন-ফাইন্যান্সিয়াল’ সম্পদ বেড়েছে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের ১ কোটি ১৩ লাখ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রায় ১২ লাখ ও সুপ্রদীপ চাকমার ১৬ লাখ টাকার সম্পদ কমেছে।

উপদেষ্টাদের স্বামী/স্ত্রীর মধ্যে সম্পদ বেশি বেড়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর স্ত্রী নুশরাত ইমরোজ তিশার। তিনি একজন অভিনেত্রী। তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ। তিশার মোট সম্পদ প্রায় ৩ কোটি।

শারমীন মুরশিদের স্বামী হুমায়ুন কাদের চৌধুরীর সম্পদ বেড়েছে ১ কোটির বেশি। তাঁর মোট সম্পদ ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি।

উপদেষ্টাদের মধ্যে সালেহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী পারভীন আহমেদের ৭৫ লাখ, আদিলুর রহমান খানের স্ত্রী সায়রা রহমান খানের ৬৪ লাখ, সি আর আবরারের স্ত্রী তাসনিম এ সিদ্দিকীর ৪৭ লাখ ও আসিফ নজরুলের স্ত্রী শীলা আহমেদের সম্পদ ৪৪ লাখ টাকা বেড়েছে।

অন্য উপদেষ্টাদের মধ্যে তৌহিদ হোসেন, সাখাওয়াত হোসেন, নূরজাহান বেগম ও সুপ্রদীপ চাকমার স্ত্রী/স্বামীর সম্পদ কমেছে।

প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ টাকার। অন্যদের কমবেশি বেড়েছে।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন।

সবার সম্পদের হিসাব

অধ্যাপক ইউনূসের প্রায় ১৫ কোটি ৬২ লাখ ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা ইউনূসের ১ কোটি ২৮ লাখ, সালেহউদ্দিন আহমেদের ৭ কোটি ১৬ লাখ ও তাঁর স্ত্রী পারভীন আহমেদের ৫ কোটি ৩৮ লাখ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের ১৬ কোটি ২২ লাখ, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ১ কোটি ৬১ লাখ ও তাঁর স্ত্রী শীলা আহমেদের ২ কোটি ৪৫ লাখ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের ২ কোটি ৯৩ লাখ ও তাঁর স্ত্রী জাহান আরা সিদ্দিকীর ৩ কোটি ৬৬ লাখ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলমের ২ কোটি ৭৭ লাখ ও তাঁর স্ত্রী লায়লা আরজুর ১ কোটি ১৩ লাখ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের ২ কোটি ৫৩ লাখ ও তাঁর স্ত্রী সায়রা রহমান খানের ৫ কোটি ৮৪ লাখ, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের ৩ কোটি ৮৯ লাখ, শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরারের (সি আর আবরার) ৭ কোটি ৫৭ লাখ ও তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক তাসনিম এ সিদ্দিকীর ৮ কোটি ২৯ লাখ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের ৬ কোটি ৭২ লাখ ও তাঁর স্ত্রী দিলরুবা কবিরের ৩ কোটি ১৮ লাখ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের ১ কোটি ১৩ লাখ ও তাঁর স্বামী আবু বকর সিদ্দিকের ১ কোটি ৯০ লাখ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের ২ কোটি ২ লাখ ও তাঁর স্ত্রী শামীমা ফারুকের ৪০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়, জমা দেওয়ার পর উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রধান উপদেষ্টা নিজ বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করবেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের ৩ কোটি ৫১ লাখ ও তাঁর স্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) রেহানা খানমের ৩৩ লাখ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের ৬ কোটি ২৪ লাখ ও তাঁর স্বামী কে এম আসাদুজ্জামানের ১ কোটি ৩৭ লাখ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের ৫ কোটি ৮৩ লাখ ও তাঁর স্ত্রী রমা সাহার ৩ কোটি ৪০ লাখ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের ১ কোটি ২ লাখ ও তাঁর স্বামী এ এফ এম মজহারুল হকের (ফরহাদ মজহার) ১ কোটি ১০ লাখ, সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের ১০ কোটি ৯৪ লাখ ও তাঁর স্বামী হুমায়ুন কাদের চৌধুরীর ৮ কোটি ৩৫ লাখ, ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের ১ কোটি ১৪ লাখ ও তাঁর স্ত্রী কামরুন্নেসা হাসিনার ১৪ লাখ, চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার ১ কোটি ১০ লাখ ও তাঁর স্ত্রী নন্দিতা চাকমার ৫৯ লাখ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের ৯১ কোটি ৬৫ লাখ ও তাঁর স্ত্রী ইফসিয়া মাহিনের ২ কোটি ১১ লাখ, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ২ কোটি ১৫ লাখ ও তাঁর স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার ২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। উপদেষ্টা এবং তাঁদের স্ত্রী/স্বামীর কারও কারও দায় রয়েছে। যেমন তিশার দায়ের পরিমাণ ১ কোটি টাকা।

সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ২০২৫ সালের ৩০ জুনের তথ্য অনুযায়ী তাঁর মোট সম্পদ ১৫ লাখ টাকা এবং দায় ২৯ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাঁর টিআইএন ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমের মোট সম্পদ ১২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৯ টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

সম্পদের হিসাব বিলম্ব হলেও প্রকাশ করা হলো, এটিই তাৎপর্যপূর্ণ। এমনভাবে মূলত সমালোচনার মুখে শেষ বেলার জন্য না রেখে যেভাবে জাতির উদ্দেশে ভাষণে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সেভাবে যথাসময়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করা হলে দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হতো, সে সুযোগ আর থাকল না।
ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

বিশেষ সহকারীদের সম্পদ

উপদেষ্টার পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজের মোট সম্পদ ২০২৪ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা বেড়ে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী ইশিতা সারওয়াতের ২ কোটি ৬১ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ গত বছরের ১৩ নভেম্বর উপদেষ্টার পদমর্যাদায় যোগ দিয়েছেন। ফলে তাঁর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

আরেক উপদেষ্টা লুৎফে সিদ্দিকী সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন না। তাঁর সম্পদের তথ্যও উল্লেখ করা হয়নি।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের ৪৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫০ ইউএস ডলার (প্রায় ৫৭ কোটি টাকা) ও ২২ লাখ টাকা রয়েছে। তাঁর মোট সম্পদের মধ্যে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত ইমারত, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ১২ লাখ ইউএস ডলারের দায় রয়েছে।

‘এটিই তাৎপর্যপূর্ণ’

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করবেন।

ওই বছরের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়, জমা দেওয়ার পর উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রধান উপদেষ্টা নিজ বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করবেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সম্পদের হিসাব বিলম্ব হলেও প্রকাশ করা হলো, এটিই তাৎপর্যপূর্ণ। এমনভাবে মূলত সমালোচনার মুখে শেষ বেলার জন্য না রেখে যেভাবে জাতির উদ্দেশে ভাষণে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সেভাবে যথাসময়ে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করা হলে দেশবাসীর কাছে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হতো, সে সুযোগ আর থাকল না। তিনি আশা করেন, নতুন সরকারের মন্ত্রী, ত্রয়োদশ সংসদের সদস্য এবং সব সরকারি কর্মচারীর সম্পদ বিবরণী শুরুতেই স্বেচ্ছায় প্রকাশ করা হবে এবং প্রতিবছর নবায়ন করা হবে।