
রমজান মানে শুধু সংযম নয়, রমজান মানে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে ইফতার করার আনন্দ, রাতের শেষ প্রহরে সাহ্রির টেবিলে গল্পে মেতে ওঠা। এই অনুভূতিকে আরও উৎসবমুখর করে তুলতে রাজধানীর বনানীতে শুরু হয়েছে ‘ফুডি ইফতার-সাহ্রি ফেস্ট ২.০’। ৩ মার্চ থেকে বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে শুরু হওয়া আয়োজনটি চলবে ১৭ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত।
আধুনিক ঢাকার ব্যস্ত জীবনে ইফতারের জন্য নির্ভরযোগ্য, মুখরোচক খাবার খুঁজে পাওয়া অনেক সময়ই ঝামেলার। কোথাও ভালো বিরিয়ানি পাওয়া যায়, কোথাও-বা ঐতিহ্যবাহী হালিম। কিন্তু সব পছন্দের খাবার এক জায়গায়, সেটাই নিশ্চিত করছে ফুডি। ৩৫টির বেশি রেস্তোরাঁর স্টল নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অনন্য মিলনমেলা, যেখানে সূর্যাস্ত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে ভোজনরসিকদের ভিড়।
ফেস্ট প্রসঙ্গে ফুডি এক্সপ্রেস লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মো. শাহনেওয়াজ মান্নান বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও ফুডি ইফতার-সাহ্রি ফেস্ট ২.০-এ থাকছে জমজমাট আয়োজন। গতবার ক্রেতাদের যে পরিমাণ সাড়া পেয়েছিলাম, তা আমাদের আরও বড় পরিসরে ভাবতে উৎসাহিত করেছে। এবার শুধু রেস্তোরাঁর সংখ্যা নয়, খাবারের বৈচিত্র্য ও ক্রেতাদের অভিজ্ঞতাকেও আমরা আরও উন্নত করেছি।’
মো. শাহনেওয়াজ মান্নান আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের সেরা স্বাদ এক ছাদের নিচে পাওয়ার এই সুযোগ রমজানে মানুষের জন্য সত্যিকারের স্বস্তি নিয়ে আসে। এবারের ফেস্টে আগতদের জন্য আমরা নামাজের বিশেষ কক্ষের ব্যবস্থা রেখেছি। পাশাপাশি শিশু ও পরিবারের সবার জন্য থাকছে মজাদার ফান অ্যাক্টিভিটি, যেন পুরো পরিবার মিলে রমজানের সন্ধ্যাগুলো আনন্দময় করে তুলতে পারেন।’
আয়োজকেরা জানান, নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য ফুডি অ্যাপে রয়েছে বিশেষ অফার। যাঁরা ইভেন্টে এসে ফুডি অ্যাপ ডাউনলোড করবেন, তাঁরা প্রথম দুটি অর্ডারে পাবেন ১৫০ টাকা ছাড়।
শুধু ইফতার নয়, এই ফেস্টে রয়েছে সাহ্রির বিশেষ আয়োজনও। রোজাদারদের জন্য রাত তিনটা পর্যন্ত সাহ্রি করার সুযোগ থাকছে, যেখানে পাওয়া যাবে সাহ্রি প্ল্যাটার। গভীর রাত পর্যন্ত পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সাহ্রি আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এমন সুযোগ ঢাকায় বিরল।
ফুচকা ও চটপটির মতো পরিচিত স্ট্রিট ফুড থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরাঁ—সবই রয়েছে একই ছাদের নিচে। পিৎজা, কোরিয়ান স্পাইসি, লেবানিজ কুইজিন থেকে দেশীয় কাবাব ও হালিম—স্বাদের কোনো ঘাটতি নেই এই ফেস্টে।
এখানে ঐতিহ্যবাহী ইফতারসামগ্রী বিরিয়ানির পাশাপাশি রাখা হয়েছে আধুনিক রুচির বার্গার, কফি ও নানা রকম ডেজার্ট ও মিষ্টান্ন। ড্রিংকসের জন্যও থাকছে আলাদা ব্যবস্থা। এ ছাড়া ফুডি এক্সপ্রেস লিমিটেডের অংশীদারত্বে খাজানা, ক্যাপিটাল কনফেকশনারি, আল-কাদেরিয়া র্যানকন ও বাবুর্চিবাড়িতে চলছে যথাক্রমে খাজানা ইফতার বাজার, ক্যাপিটাল ইফতার বাজার, র্যানকন গ্র্যান্ড ইফতার বাজার এবং বাবুর্চিবাড়ি ইফতার বাজার।
ফুডি ইফতার ও সাহ্রি ফেস্ট ২.০-এর জমজমাট আয়োজনটি সফল করতে রয়েছে একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ইভেন্টির পাওয়ার্ড বাই ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি। বেভারেজ পার্টনার কোকাকোলা, হাইজিন পার্টনার স্যাভলন ও আইসক্রিম পার্টনার পোলার।
ফেস্টে আসা দর্শনার্থীরা তিনটি ভিন্ন উপায়ে তাঁদের পছন্দের খাবার উপভোগ করতে পারবেন। প্রথমত, ইফতার ও সাহ্রির জন্য ফেস্ট থেকে খাবার কিনে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, যাঁরা পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসবেন, তাঁরা ইভেন্টেই বসে প্রিয়জনদের সঙ্গে খাবার উপভোগ করতে পারবেন। তৃতীয়ত, যাঁরা ফেস্টে সরাসরি আসতে পারছেন না, তাঁরা ফুডি অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার করে ঘরে বসেই পেতে পারেন রেস্তোরাঁগুলোর বিশেষ ইফতার ও সাহ্রি আইটেম। দেশীয় এই খাদ্যসেবাদাতা প্ল্যাটফর্ম অনলাইনভিত্তিক হোম ডেলিভারির মাধ্যমে রমজানজুড়ে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেবে পছন্দের ইফতার আইটেম এবং অনলাইনে খাবার অর্ডারের সুবিধাও রয়েছে।
ফুডি চায়, রমজানের প্রতিটি ইফতার ও সাহ্রি হোক আনন্দময়। তাই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে। কারণ, এই ইফতার ও সাহ্রি ফেস্ট শুধু একটি উৎসব নয়, এটি রমজানের সংযম ও আনন্দকে ভাগ করে নেওয়ার এক অনন্য মিলনমেলা।