
নির্বাচন উপলক্ষে সরকার আন্তজেলা রুটে চলাচলকারী ও দূরপাল্লার বাস রিকুইজিশন দিচ্ছে। সরকারের এ পদক্ষেপ বন্ধের দাবিতে প্রেস ব্রিফিং করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
আজ শনিবার রাজধানীর পরীবাগে সংগঠনটির কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সংবাদ ব্রিফিংয়ে আন্তজেলা রুটে চলাচলকারী বাস রিকুইজিশনের পরিবর্তে শহর ও শহরতলি রুট থেকে গাড়ি রিকুইজিশনের দাবি জানানো হয়।
মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার আন্তজেলা রুটে চলাচলকারী বাসের ৫০ শতাংশ রিকুইজিশন করেছে। এ হারে রিকুইজিশন চলতে থাকলে নির্বাচনের সময় ভোটারদের যাতায়াতে ভোগান্তি তৈরি হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম আরও অভিযোগ জানান, সরকার গাড়ি রিকুইজিশন দিলেও মালিক ও শ্রমিকদের জন্য অর্থ বরাদ্দের কোনো ঘোষণা দেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের কথা বলছি না। কিন্তু যারা পুরো সময়ে নির্বাচনের কাজে সহায়তা করবে, সেই চালক ও বাসমালিকেরা ক্ষতিপূরণ বাবদ কত টাকা পাবে, সেটা সরকারকে ঘোষণা করতে হবে।’
অতীতেও ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরকার বাস চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেন সাইফুল আলম। ক্ষতিপূরণের টাকা কোন দপ্তর থেকে তোলা যাবে, সেটাও জানাতে হবে বলে দাবি জানান তিনি।
মো. সাইফুল আলম অভিযোগ করেন, মালিক সমিতির পক্ষ থেকে উদ্ভূত জটিলতা নিরসনে তারা ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের চিঠির কোনো জবাব দেয়নি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি একই চিঠি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছেও দিয়েছে। কিন্তু সরকারের কোনো পক্ষ থেকে তারা সাড়া পায়নি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন বলেন, নির্বাচনের সময়ে অনেক মানুষ গ্রামে ভোট দিতে যাবেন। অনেকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায়ও ভোট দিতে যাবেন। এমন পরিস্থিতিতে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস রিকুইজিশন করা হলে মানুষ বিপাকে পড়বে। বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ তৈরি হবে। কাজেই বিষয়টির যৌক্তিক সমাধান দরকার।
এম এ বাতেন বলেন, ‘আমরা গাড়ি না দেওয়ার জন্য বলছি না। কিন্তু গাড়ি রিকুইজিশনের পর যদি হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন, সে ক্ষেত্রে আমাদের দায়ী করা যাবে না।’ তিনি আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস রিকুইজিশনের বিপরীতে সরকারকে শহর ও শহরতলির বাস এবং সরকারি পরিবহন পুলের পরিবহন রিকুইজিশনের পরামর্শ দেন।