বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চালুর দাবিতে ছাত্রলীগের সাবেক–বর্তমান নেতাদের সমাবেশ

ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান নেতাদের প্রতিবাদ সমাবেশ৷ ১৬ আগস্ট, রাজু ভাস্কর্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ব্যানারে ‘আলোচনা ও দোয়া’ অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন একদল শিক্ষার্থী। তাঁদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের একটি অংশ। বুয়েটে ফের ছাত্ররাজনীতি চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে বরগুনায় ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর লাঠিপেটায় জড়িত অভিযোগে জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলীকে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগের ওই নেতারা৷

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান নেতারা এসব দাবি জানান। ‘সম্প্রতি বুয়েটে শোকসভার বিরোধিতা ও বরগুনায় জাতীয় শোক দিবসের সভায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশের বেআইনি লাঠিচার্জের প্রতিবাদে’ এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান নেতাদের পক্ষ থেকে কিছু দাবি তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি কামাল খান। তিনি বলেন, মৌলবাদের উত্থান রুখে দেওয়া ও অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে বুয়েটে অবিলম্বে ছাত্ররাজনীতি চালু করতে হবে। তা না করা হলে বুয়েট প্রশাসনকে রাজপথে জবাব দেওয়া হবে। বুয়েটের ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর শোকসভার বিরোধিতাকারীদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে তাঁদের বহিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

বরগুনায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মারধর করা জেলার পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর মল্লিকের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান কামাল খান। তিনি বলেন, বরগুনার বদলি হওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী সাবেক ছাত্রদল ক্যাডার। অবিলম্বে তাঁদের বরখাস্ত করে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি পুলিশের পিটুনিতে বরগুনায় আহত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার জেলা পুলিশকে বহন করারও দাবি জানান তিনি।

সমাবেশে অংশ নিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি চঞ্চল কর্মকার বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের কলকবজাগুলোতে জামায়াত-বিএনপির ভূত ঢুকে বাংলাদেশকে সুস্থ রাখার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে৷ কয়েক দিন আগে এর বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে বুয়েটে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্য দোয়া মাহফিল করতে গিয়েছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। তাঁদের জঙ্গি স্টাইলে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, সেখানে ছাত্রলীগের রাজনীতি চলবে না। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা চঞ্চল বলেন, ‘এ ধরনের বুয়েট আমরা দেখতে চাই না।’

এ সময় বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার রায় পুনর্বিবেচনা করতে উচ্চ আদালতের প্রতি আহ্বান জানান ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি সোহান খান। তিনি বলেন, বুয়েট স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হতে পারে, কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শোকসভায় সেখানকার ছাত্ররা বাধা দিতে পারেন না৷ এ সময় বুয়েটের নীতিমালা পরিবর্তন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করার কথা জানিয়ে অবিলম্বে সেখানে ছাত্ররাজনীতি চালু করার দাবি জানান তিনি।

প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সরদার মামুন-অর-রশীদ, সাকিব হাসান, শহীদুল ইসলাম, লতিফুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির নেতা ইয়াজ আল রিয়াদ, এহসান পিয়াল, ফাল্গুনী দাস, মাজহারুল ইসলাম শামীম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৯ সালের অক্টোবরে বুয়েট ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। গত শনিবার বুয়েট ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বুয়েটের সাবেক নেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে জাতীয় শোক দিবসের এক কর্মসূচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান কয়েক শ শিক্ষার্থী। তাঁদের তোপের মুখে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা চলে যেতে বাধ্য হন। সেদিন রাত ১০টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। বুয়েট কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচি হবে, তা তাদের জানা ছিল না। বুয়েটের বিক্ষোভ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে গতকাল সোমবার জাতীয় শোক দিবসে বরগুনায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধে৵ সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িসহ বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় ‘বাড়াবাড়ি হয়েছে’ বলে আজ মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলীকে আজ বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।