
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে দেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫৫০টি বা ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততা ছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে বিএনপির সম্পৃক্ততা ছিল ৫৫০টিতে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা ছিল ১২৪টিতে (২০ দশমিক ৭ শতাংশ), জামায়াতে ইসলামীর ৪৬টিতে (৭ দশমিক ৭ শতাংশ), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৭টিতে (১ দশমিক ২ শতাংশ) এবং জাতীয় পার্টির সম্পৃক্ততা ছিল ৫টি (শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ) ঘটনায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৩টি (২ দশমিক ২ শতাংশ) এবং অন্যরা ৭টি (১ দশমিক ২ শতাংশ) সহিংসতার ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। একই সহিংসতায় একাধিক দল সম্পৃক্ত থাকায় দলগুলোর হিসাব আলাদাভাবে গণনা করা হয়েছে বলে জানায় টিআইবি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্তঃকোন্দল ও সহিংসতা অব্যাহত ছিল। এসব ঘটনায় মোট ১৫৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৮২ জন।
সহিংসতার কারণ
সহিংসতার কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন খাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায় এসব সংঘাত হয়েছে বলে গবেষণায় জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজি এবং সিলেটে পাথর লুটপাটকে কেন্দ্র করেও এসব দ্বন্দ্ব–সংঘাত ঘটে।
এ ছাড়া সেতু, বাজার, ঘাট, বালুমহাল ও জলমহালের ইজারা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কার্যকর না থাকা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো শাহজাদা এম আকরাম, মো. জুলকারনাইন, রিসার্চ ফেলো ফারহানা রহমান, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মোস্তফা কামাল ও মোহাইমেনুল ইসলাম।