বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান

আন্তর্জাতিক চুক্তি ইচ্ছা করলে বাতিল করা যায় না: আদানি চুক্তি প্রসঙ্গে জ্বালানি উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক চুক্তি ইচ্ছা করলেই বাতিল করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচিত সরকার।

রোববার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে জ্বালানি–বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা (ইপিএসএমপি–২০২৬–২০৫০) নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আদানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

বিদেশি বিনিয়োগ ও চুক্তির বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘বিদেশিদের ব্যাপারে আমরা শুরু থেকেই আর্মস–লেন্থ পজিশন (স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ অবস্থান) নিয়েছি। আমাদের এটা দেখানো সংগত হতো না যে সরকার একটা উইচহান্টিংয়ে (উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে দমন করা) যাচ্ছে। সে জন্য আমরা একটা জাতীয় কমিটি গঠন করেছিলাম। আমরা সে কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছি।’

ফাওজুল কবির বলেন, ‘ইচ্ছে করলে আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল করা যায় না। আমরা এ জন্য এটি নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি।’

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে নির্বাচিত সরকারকে যেন বেগ পেতে না হয়, সে জন্য তাঁর মন্ত্রণালয় একটি রূপরেখা রেখে যাচ্ছে বলে জানান ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার চাইলে এ মহাপরিকল্পনা সংশোধন করতে পারবে।

জ্বালানি–বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা নিয়ে অংশীজনদের সভায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে রূপান্তরের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে কোনো খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৪২ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে না করলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সে খাত থেকে আমদানি বন্ধ করে দেবে। পোশাক খাতের রপ্তানি রক্ষা করতে আমাদের নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দিকে যেতে হবে।’

বিএনও লুব্রিক্যান্টের পরিচালক সালাউদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী এখন কার্বন নির্গমন শূন্য যেটাকে নেট–জিরো অ্যাপ্রোচ বলা হচ্ছে, সেটার সঙ্গে আমাদের মহাপরিকল্পনা কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটা দেখতে হবে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (জলবায়ু কনভেনশন) মির্জা শওকত আলী বলেন, ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষিত বিবেচনায় আমাদের মহাপরিকল্পনায় কয়লার ব্যবহার না রাখাই ভালো। কয়লার ব্যবহার থাকলে জলবায়ুর বৈশ্বিক দর–কষাকষিতে বাংলাদেশ বাধার মুখে পড়বে।’

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অনীহা আছে। অনীহা সত্ত্বেও আমাদের সাফল্য আছে। এ মহাপরিকল্পনা আমরা অনুমোদন করব না। সেটা নির্বাচিত সরকার করবে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামন রতন ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের দিদারুল আলমসহ আরও অনেকে। তাঁরা জ্বালানি খাতকে জনবান্ধব রাখা, মূল্যবৃদ্ধি না করা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর জোর দেন।