হাইকোর্ট ভবন
হাইকোর্ট ভবন

প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারসহ নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত চেয়ে রিটে আদেশ কাল

সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারসহ নির্বাচনী কার্যক্রমে যেকোনোভাবে নিয়োজিত নারীদের ভোটের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিটের ওপর আগামীকাল সোমবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের এ দিন ধার্য করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে গত ২২ জানুয়ারি। আর শেষ হবে নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটায়।

তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নিয়োজিত নারীদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর ও আইনগত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়ে আইনজীবী উম্মে সালমার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন ২৯ জানুয়ারি আইনি নোটিশ পাঠান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের প্রতি ওই নোটিশ পাঠানো হয়।

পরবর্তী সময়ে দৃশ্যমান ফল না দেখে উম্মে সালমা আবেদনকারী হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি ওই রিট করেন। আদালতের আজকের কার্যতালিকায় রিট আবেদনটি শুনানির জন্য ১২৭ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আদেশের জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেছেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, পছন্দসই প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নিয়োজিত নারী, বিশেষ করে হিজাব পরিহিতরা দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্দিষ্ট গ্রুপের মাধ্যমে ভয়ভীতি, হামলা ও হয়রানি শিকার হয়েছেন। এ ধরনের হামলা–আক্রমণ বিদ্যমান আইনে শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। শুধু তা–ই নয়, সংবিধান অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। হামলা ও হয়রানি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিরোধমূলক বা শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যে কারণে সারা দেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারসহ নির্বাচনী কার্যক্রমে যেকোনোভাবে নিয়োজিত নারীদের ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়।

রিটের প্রার্থনায় বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার বা অন্য কোনো আইনগত কার্যক্রমে নিয়োজিত নারীদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর ও আইনগত পদক্ষেপ নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত নারীদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর ও আইনগত পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে রিটে।

রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে যেকোনোভাবে নিয়োজিত নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সব রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতি দিকনির্দেশনা ইস্যু করতে নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এই দিকনির্দেশনা ইস্যু করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের প্রতি নির্দেশ চাওয়া হয়েছে রিটে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।