সদ্য সমাপ্ত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় (ডিআইটিএফ) বিগত কয়েক বছরের তুলনায় রপ্তানি আদেশ, ভ্যাট বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর) আদায় এবং দর্শকের উপস্থিতি ও বিক্রি—সবই কমেছে। তাতে অবশ্য মেলার আয়োজকেরা হতাশ নন। নতুন স্থান আর করোনা সংক্রমণের মধ্যে মেলা শেষ করতে পারাকেই তাঁরা সফলতা হিসেবে দেখছেন।
এবারে ১৩৮ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ মিলেছে। আগের আসরে, অর্থাৎ ২০২০ সালের রপ্তানি আদেশের পরিমাণ ছিল ২৯০ কোটির বেশি টাকা।
এবার মেলার শুরুতে দর্শকখরা দেখা গেছে। শেষের দিকে অবশ্য ক্রেতাসমাগম ও বিক্রি বাড়ে। তবে সার্বিকভাবে মেলায় আগের বছরগুলোর তুলনায় রপ্তানি আদেশ, ভ্যাট বা মূসক আদায়, দর্শক উপস্থিতি ও বিক্রি—সব পরিসংখ্যানই আগের কয়েক বছরের তুলনায় কমেছে। মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এর আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, এবারে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানির আদেশ মিলেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ধরে)। আগের আসরে, অর্থাৎ ২০২০ সালের রপ্তানি আদেশের পরিমাণ ছিল ২৯০ কোটির বেশি টাকা। তার আগে ২০১৯ সালে ২০০ কোটি, ২০১৮ সালে ১৬০ কোটি ৫৭ লাখ ও ২০১৭ সালে ২৪৩ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গিয়েছিল।
ভ্যাট আদায়ের পরিমাণও কমেছে। ইপিবির দেওয়া তথ্য অনুসারে এবারের মেলায় ভ্যাট আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে ২০২০ সালের মেলায় মোট ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৬ কোটি ৪৬ টাকা। তার আগের বছর ২০১৯ সালে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ টাকা।
ঢাকার পূর্বাচলে প্রথমবারের মতো এবার অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মেলায় আনুমানিক ৪০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। এর আগে শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত মেলায় ২০১৭ সালে ১১৩ কোটি টাকা ও ২০১৮ সালে ৮৭ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল।
ইপিবি জানায়, ঢাকার পূর্বাচলে প্রথমবারের মতো এবার অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মেলায় আনুমানিক ৪০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। এর আগে শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত মেলায় ২০১৭ সালে ১১৩ কোটি টাকা ও ২০১৮ সালে ৮৭ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল। ইপিবি অবশ্য ২০১৯ ও ২০২০ সালে পণ্য বিক্রির তথ্য না দিতে পারলেও বলেছে, তা এ বছরের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।
নিম্নগামী পরিসংখ্যান দেখা গেছে ক্রেতা-দর্শকের সংখ্যায়ও। মেলার প্রবেশ টিকিটের ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠান মীর ব্রাদার্সের কর্মকর্তারা জানান, এবারের মেলায় প্রায় সাড়ে ৯ লাখ ক্রেতা-দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছে। এর আগে ২০২০ সালে ১৫ লাখ ও ২০১৯ সালে ৫০ লাখের বেশি দর্শক মেলায় এসেছিলেন।
মেলার নতুন ভেন্যুতে স্টলের সংখ্যাও কমেছে। ২০১৯ সালে শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মেলায় ১১০টি প্যাভিলিয়ন, ৮৩টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ৪১২টি স্টল ছিল। ২০২০ সালে ১১২টি প্যাভিলিয়ন, ১২৮টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২৪৩টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ছিল। কিন্তু এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ২৩টি প্যাভিলিয়ন, ২৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ১৬২টি স্টলে অংশ নেয়। এ ছাড়া ১৫টি খাবারের দোকান ছিল মেলায়।
ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন মেলার ফটকের ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠান মীর ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এ বছর টিকিট বিক্রি করে ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আয় করতে পেরেছি। কিন্তু ফটকের ইজারা পেতে আমাদের কর-ভ্যাট দিতে হয়েছে। এর বাইরেও ব্যবস্থাপনায় আরও কিছু খরচ আছে। খরচের টাকাও এবার ওঠেনি’। তিনি জানান, গতবার শেরেবাংলা নগরে গেটের টিকিট বিক্রি করে সাড়ে সাত কোটি টাকার ওপরে আয় হয়েছিল তাঁদের।
তবে আগামী বছর মেলায় ক্রেতা-দর্শকের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন সাইদুর রহমান।
আগামী বছর নিয়ে আশাবাদের কথা শোনালেন বাণিজ্য মেলার পরিচালক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহমেদও। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর মেলায় পণ্য বিক্রি ও ক্রেতার উপস্থিতি কম হবে, এটা অনুমিতই ছিল। তবে আশার চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি শেষের দিকে। আগামী বছর আরও ভালো হবে।’