
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানিতে ঋণের সীমা তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিতে পারে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গতকালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ সীমা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে এ খাতে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে কোনো ব্যাংক ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৫ শতাংশের সর্বোচ্চ সীমা কার্যকর হবে না। অবশ্য ঋণের সর্বোচ্চ সীমা কত হবে, তা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
ডলার-সংকটে কয়লা আমদানি না হওয়ায় রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এক মাস বন্ধ রাখতে হয়েছে। কয়লার বিল বকেয়া রেখে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাঁচ মাসের বিল বকেয়া থাকায় জ্বালানি তেল আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে বেসরকারি খাতের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকেরা। নিয়মিত ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এলএনজি আমদানি বাড়াতে পারছে না বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। ডলারের চাহিদা জানিয়ে সব প্রতিষ্ঠান মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিচ্ছে। তাদের পাঁচ মাসে ৬০০ কোটি ডলার (৬৩ হাজার কোটি টাকা, ডলার ১০৫ টাকা ধরে) লাগবে।
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) গত ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারকে চিঠি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ফার্নেস তেল বা এইচএফও আমদানিতে প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহের অনুরোধ জানায়।
সমিতির সভাপতি ফয়সাল খানের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, বাজারে ডলারের ঘাটতির কারণে তাদের সদস্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে প্রয়োজনীয় ফার্নেস তেল আমদানি করা সম্ভব নয়। এমনকি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও যন্ত্রাংশ আমদানি করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি আমদানিতে খরচ বেশ বেড়েছে। শুধু পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে গত অর্থবছরের (২০২১-২২) জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৬৭ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) একই সময়ে লেগেছে ৫৩৬ কোটি ডলার। অর্থবছরের বাকি ছয় মাসে এ খাতে আমদানি খরচ আরও বাড়বে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানিতে ঋণের সীমা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।