বাজেট সহায়তায় প্রথম এগিয়ে এল এআইআইবি 

এআইআইবির কাছ থেকে বাজেট সহায়তা বাবদ ২৫ কোটি ডলার আসছে। চলতি সপ্তাহে এ ব্যাপারে চুক্তি হতে পারে। 

বাজেট সহায়তা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হতে পারে। সেটি হলে সংস্থাটির কাছ থেকে বাংলাদেশ ২৫ কোটি ডলার পাবে, যা স্থানীয় মুদ্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মতো। ইতিমধ্যে এই চুক্তির সারসংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অনুমোদন পাওয়া গেলেই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে এআইআইবি থেকে প্রথম অর্থ সহায়তা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। 

এআইআইবির ২৫ কোটি ডলারে কত সুদ দিতে হবে, এবার তা দেখা যাক। প্রথমবারের মতো সিকিউরড ওভারনাইট ফাইনান্সিং রেটে (এসওএফআর) এই বাজেট সহায়তা মিলছে। লন্ডন ইন্টার ব্যাংক সুদের হারের (লাইবর) মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি ডিসেম্বর মাসে। এর বিকল্প সুদের হার এসওএফআর প্রযোজ্য হবে এআইআইবির ঋণে। বর্তমানে এসওএফআর ৩ শতাংশের বেশি। 

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, এআইআইবির বাজেট সহায়তার ২৫ কোটি ডলার ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এর সঙ্গে তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যাবে। এআইআইবির ঋণটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে খরচ হবে। এই খাতে এডিবি আরও ২৫ কোটি ডলার দিচ্ছে। আগামী মার্চ মাস নাগাদ এডিবি এই বাজেট সহায়তা অনুমোদন দেবে। 

ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, ২৫ কোটি ডলার পাওয়া গেলে বাংলাদেশকে দেওয়া এআইআইবির ঋণের পরিমাণ প্রথমবারের মতো ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৬ সালে এআইআইবির সদস্য হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৮০ কোটি ডলার পেয়েছে। 

গত শনিবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক সেমিনারে ইআরডি সচিব শরিফা খান বলেন, ‘ডলারের সংকট মেটাতে ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের কাছে বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে। প্রথম এআইআইবির কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাচ্ছি। এ ছাড়া আগামী মার্চ মাসের মধ্যে অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকেও বাজেট সহায়তার অর্থ ছাড় শুরু হবে বলে আশা করি।’

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাপান—এই চার দাতা সংস্থা ও দেশ বাংলাদেশকে প্রায় দেড় শ কোটি ডলার দিচ্ছে, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। চলমান সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আগামী জুনের মধ্যে এডিবি ৫০ কোটি, আইএমএফ ৩৬ কোটি, জাপান ৩৫ কোটি ও বিশ্বব্যাংক ২৫ কোটি মার্কিন ডলার দিতে পারে। 

বর্তমানে আইএমএফের সঙ্গে ৪৫০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ঘুরে গেছে। প্রাথমিকভাবে তারা অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। তবে আর্থিক ও রাজস্ব খাতে কিছু সংস্কারের বিষয়ে শর্ত দিতে পারে। আগামী মাসে সংস্থাটির বোর্ড সভায় ওই ঋণ অনুমোদন পেলে ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ প্রথম কিস্তির ৩৫ কোটি ডলার দেশে আসতে পারে। এ ছাড়া আগামী মার্চে বাজেট সহায়তা হিসেবে ২৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করতে পারে বিশ্বব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আইএমএফের ঋণ অনুমোদন ও শর্তের ধরনের ওপর নির্ভর করছে অন্য দাতারা কত দ্রুত বাজেট সহায়তা বাবদ ঋণ অনুমোদন করবে।