আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাশে আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাশে আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আইএমএফের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই: অর্থমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্তের সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি আইএমএফের চাপে নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও সরকারি তহবিলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দাম বাড়ানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত নির্বাচিত সরকার মেনে নেবে না। ভবিষ্যৎ কর্মসূচির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভায় যোগদান শেষে আজ রোববার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৮ এপ্রিল এ সভা শেষ হয়।

জ্বালানি তেলের দাম আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে বাড়ানো হলো কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সারা দুনিয়ায় তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে তাদের কথা মাথায় রেখে এত দিন দাম বাড়ানো হয়নি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সবাই বলছে, আপনারা তেলের দাম বাড়াচ্ছেন না কেন? আপনার তো তহবিল খালি হয়ে যাচ্ছে। তেলের দাম না বাড়ালে দেশ চালাবেন কী করে? সে জন্য যতটুকু না বাড়ালে নয়, ততটাই বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে আইএমএফ শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই।’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বাড়তেও পারে, না–ও বাড়তে পারে। জ্বালানি তেলের দাম যতটুকু বেড়েছে তা বেশি নয়। মূল্যস্ফীতির ঝুড়িতে জ্বালানি তেলের অংশ সামান্য।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলমান প্রক্রিয়া, এটি চলতে থাকবে। আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। উন্নয়ন সহযোগীদের চাওয়া আছে, বাংলাদেশেরও চাওয়া-পাওয়া আছে। তারা চাইলেই তাদের কথামতো করতে পারব না। কারণ, আমরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেক বিষয়ে সরকার জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের বাইরে গিয়ে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে কোনো কিছু নেব না। এটা পারস্পরিক বোঝাপড়ার ব্যাপার।’

অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা আরও ১৫-২০ দিন চলতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে মোটামুটি আলোচনা হয়ে গেছে, শেষের দিকে। এডিবি, এআইআইবি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়ে গেছে। আইএমএফের সঙ্গে যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের জনগণ, ব্যবসায়ী, অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে এমন সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারবে না। শুধু ওদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার নয়, বাংলাদেশেরও সিদ্ধান্তের ব্যাপার আছে।

কিছু শর্ত বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য না–ও হতে পারে

আইএমএফের শর্ত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আইএমএফের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি আওয়ামী লীগের সময়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে অনেক শর্ত আছে, কিছু শর্ত বিএনপি সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য না–ও হতে পারে। আওয়ামী লীগ ছিল অনির্বাচিত সরকার, বিএনপি নির্বাচিত সরকার। আইএমএফের কোনো শর্ত যদি জনগণের কোনো ধরনের স্বার্থ সংরক্ষণে বাধা হয়, সে সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকার নেবে না।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যে প্রোগ্রাম, সেটি ছয়–সাতটি মাস পর শেষ হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে প্রোগ্রামে যাওয়া হবে কি না, সেটি এই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

ফ্যামিলি কার্ড চালু করার কারণে আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে যেতে পারে, অথবা ঋণ ছাড় করার কারণে নতুন শর্ত আরোপ করছে এমন আলোচনা উঠেছে—এক সাংবাদিকের এমন মন্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে আইএমএফের ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং ফ্যামিলি কার্ডকে সব পক্ষ প্রশংসা করেছে। অর্থনীতির সুফল দরিদ্র জনগণের কাছে এর মাধ্যমে পৌঁছে যাবে।’

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণের কল্যাণকে বাইরে রেখে কোনো দাতা সংস্থার শর্ত পূরণের সুযোগ নেই। ফ্যামিলি কার্ড সব উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অত্যন্ত ভালোভাবে গৃহীত হয়েছে।