
দেশে উৎপাদিত প্লাস্টিকের খেলনার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) অব্যাহতি দাবি করেছেন প্লাস্টিকশিল্পের মালিকেরা। তাঁরা বলছেন, প্লাস্টিকের খেলনা উপখাতের দ্রুত বিকাশ হচ্ছে। আমদানি বিকল্প উন্নত মানের খেলনা প্রস্তুত হচ্ছে। রপ্তানিও হচ্ছে বিদেশে।
ভ্যাট অব্যাহতির সুযোগ চাওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা যুক্তি দিয়েছেন, ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হওয়ায় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, দেশীয় খেলনা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই ছোট ছোট। তাদের ভ্যাট দেওয়ার সামর্থ্য নেই। ভ্যাটের কাগজপত্র ব্যবস্থাপনা করার মতো সক্ষমতাও তাদের নেই। এসব ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে হলে ভ্যাট প্রত্যাহার করা দরকার। একই সঙ্গে খেলনা আমদানিতে ট্যারিফ মূল্য বাড়ানোর অনুরোধ করেন তাঁরা।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্লাস্টিকপণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) নেতারা দেশে উৎপাদিত খেলনার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারসহ ১৫টি দাবি জানান।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিপিজিএমইএ কার্যালয়ে আজ সোমবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সভাপতি সামিম আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন বিপিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এ এস এম কামাল উদ্দিন, ফেরদৌস ওয়াহেদ, বর্তমান সহসভাপতি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, এ কে এম ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
বাজেটের আগে খেলনা উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ২৮টি উপকরণের জন্য করছাড় দাবি করেছিল বিপিজিএমইএ। বাজেটে ১৩টি উপকরণের ওপর রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়। তবে এনবিআরের জারি করা এসআরওতে ভুলভ্রান্তি ও অসংগতির অভিযোগ এনে তা সংশোধন করার অনুরোধ করেন বিপিজিএমইএর নেতারা।
প্লাস্টিক খাতের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দাবি করেন সভাপতি সামিম আহমেদ। তিনি বলেন, ‘কর অবকাশ সুবিধায় নতুন নতুন খাত যুক্ত হয়েছে। ঢাকা ও তার আশপাশ এবং চট্টগ্রামের বাইরে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিনিয়োগ, ফল প্রক্রিয়াজাত, গৃহস্থালি ইলেকট্রিক পণ্য উৎপাদনসহ বেশ কিছু খাতে বিভিন্ন মেয়াদে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিক শিল্পও তার অবস্থান ও রপ্তানিতে ভূমিকার কারণে উল্লেখযোগ্য খাতে পরিণত হয়েছে। তাই অন্য খাতের মতো প্লাস্টিকশিল্পেও কর অবকাশ সুবিধা সম্প্রসারণ করার প্রস্তাব করছি।’
৩ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহারের দাবি করে বিপিজিএমইএ সভাপতি বলেন, করোনার কারণে প্লাস্টিক খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও রুগ্ন হয়ে পড়েছে। শ্রমঘন এই শিল্প থেকে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে বাজেটে প্লাস্টিকশিল্পের ওপর আরোপিত ৩ শতাংশ আগাম কর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।