রাত পোহালেই আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকায় কাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টা ভোট গ্রহণ হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৬৭৪ জন ভোটার ভোট দেবেন।
রিহ্যাবে এই প্রথমবারের মতো সভাপতি, ৬ সহসভাপতি ও ১৯ পরিচালক পদের সব কটিতে সরাসরি নির্বাচন হবে। সব মিলিয়ে সংগঠনটির ২৯ পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৭৭ জন ব্যবসায়ী। প্রার্থীদের অধিকাংশই তিনটি প্যানেলের হয়ে লড়ছেন।
নির্বাচনে মুখ্য পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সরকারের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। এ ছাড়া পর্যবেক্ষক ও সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরও চারজন কর্মকর্তা।
এবারের নির্বাচনে আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ ও প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ নামে দুটি জোট পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছে। এ ছাড়া জাগরণ নামে আরেকটি জোট ১৩ জনের একটি খণ্ডিত প্যানেল দিয়েছে। তবে সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন নবো উদ্যোগ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবুল খায়ের। পরিচালক পদেও তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
রিহ্যাবের বর্তমান পর্ষদ তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়। সে অনুযায়ী গত বছর তফসিল ঘোষণা করা হয়। ভোট হওয়ার কথা ছিল এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ভোট প্রায় দুই মাস পিছিয়ে যায়।
প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ নামে নতুন প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান মো. আলী আফজাল। তিনি আগে কখনো রিহ্যাবের পরিচালক হননি। এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি প্রার্থী হয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, মো. শেখ সাদি, আবু খালেদ মো. বরকতুল্লাহ, এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, মো. হারুন অর রশীদ ও নূর উদ্দিন আহমেদ।
জাগরণ প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন ক্যাপিটাল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খান। এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন আবদুল লতিফ, এ এম মহিব উদ্দীন, এস এম জাহিদুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম খান ও মো. শাহদাৎ হোসেন। এ ছাড়া পরিচালক পদে তাঁদের প্রার্থী রয়েছেন সাতজন।
জানতে চাইলে রিহ্যাবের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধু প্রার্থী, ভোটার ও অনুমোদিত ব্যক্তিরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। বহিরাগত ব্যক্তিদের প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরাও থাকবেন। ভোট শেষে ম্যানুয়েল ও ডিজিটাল—উভয় পদ্ধতিতে গণনার ব্যবস্থা রয়েছে।