তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর দ্বৈত সদস্যভুক্ত কারখানার মালিকদের ভোটাধিকারে শর্ত আরোপ হতে যাচ্ছে। তারা বিজিএমইএ থেকে কাঁচামাল আমদানিতে প্রাপ্যতা অনুমোদন বা ইউটিলিটি ডিক্লারেশনসহ (ইউডি) অন্যান্য সব সেবা না নিলে এই সংগঠনটির নির্বাচনে ভোটাধিকার হারাবে।
গতকাল শনিবার ঢাকার উত্তরা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিজিএমইএর বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। বোর্ড সদস্য ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, এস এম ফজলুল হক ও খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
বিজিএমইএর সহসভাপতি শেহাব উদ্দুজা চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে দুই সংগঠন অর্থাৎ বিজিএমইএর ও বিকেএমইএর সদস্য হলে এবং বিজিএমইএ থেকে সব সেবা না নিলেও তার সদস্য পদ বহাল থাকবে। তবে তাদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে না। সভায় উপস্থিত সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো সেবা না নিয়ে কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় ভোট দিতে আসা খুবই অনৈতিক। বিকেএমইএতে একই রকম নিয়ম প্রযোজ্য রয়েছে।
জানা যায়, বিজিএমইএর সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে বর্তমানে দ্বৈত সদস্য ১৩৫টি কারখানার মালিকেরা ভোটাধিকার হারাতে পারেন। এসব কারখানা বর্তমানে বিজিএমইএর পরিবর্তে বিকেএমইএ থেকে কিছু সেবা নিয়ে থাকে।
শেহাব উদ্দুজা চৌধুরী আরও বলেন, যেসব সদস্য কারখানার উৎপাদন নেই, তবে কাগজপত্র হালনাগাদ রয়েছে, তাদের ভোটাধিকার থাকবে। এমনকি যাঁরা সাব-কন্ট্রাক্টের (ঠিকা) কাজের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানি করেন, এমন সদস্যরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারলে ভোটাধিকার ধরে রাখতে পারবেন। তবে যেসব কারখানার কোনো অস্তিত্ব নেই, শুধু কাগজপত্র আছে, তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবা হলো রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে ইউডি দেওয়া। প্রতিটি ইউডির বিপরীতে সদস্যদের নির্ধারিত সেবা মাশুল দিতে হয়। সংগঠন দুটির আয়ের একটি বড় অংশও ইউডির মাশুল থেকে আসে।
সংগঠন দুটির সূত্র অনুযায়ী, বিজিএমইএর সক্রিয় সদস্য প্রায় ২ হাজার ২০০। আর বিকেএমইএর সদস্য প্রায় ৮০০। দুই সংগঠনেই সদস্য পদ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ১৫০। এর মধ্যে প্রায় ১৩৫টি প্রতিষ্ঠান ইউডি সেবা নেয় বিকেএমইএ থেকে। ফলে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হলে প্রায় ১৩৫টি কারখানা ভোটাধিকার হারাতে পারে।
বিজিএমইএর সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিজিএমইএর সিদ্ধান্তে কোনো বিভেদ হবে না। আমরা ব্যবসার স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করব।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএর মতো আমাদের কোনো নিয়ম নেই। ২০০৮ সালে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কোনো সদস্য টানা এক বছর ইউডি না নিলে তাঁর সদস্য পদ নবায়ন হবে না। সদস্য পদ নবায়ন না হলে ভোটাধিকার থাকবে না। তবে বছরে একবার ইউডি নিলে তাঁর সদস্য পদ নবায়ন হবে।’