দেশের বাজারে আজ সোনার দাম বেড়েছে। আজ সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ভরিতে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা।
এর আগে গতকাল সোমবার দেশের বাজারে সোনার দাম সকাল ও বিকেল দুই বেলা কমানো হয়। সকালে ভরিতে কমানো হয় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এরপর বিকেলে সোনার দাম আরেক দফা ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমানো হয়। ফলে এক দিনেই প্রতি ভরিতে সোনার দাম কমে ১২ হাজার ১৪ টাকা।
আজ মঙ্গলবারের নতুন দাম অনুসারে, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ভরিপ্রতি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৩ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫১৯ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৪ টাকা।
গত বৃহস্পতিবার দেশে সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম।
করোনার পর গত পাঁচ বছরে দেশে-বিদেশে সোনার দাম দ্রুতগতিতে বেড়েছে। এর মধ্যে দেশের বাজারে ২০২৩ সালের ২১ জুলাই প্রতি ভরি সোনার দাম প্রথম এক লাখ টাকায় ওঠে। এরপর তা গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেড় লাখ ও অক্টোবরে দুই লাখ টাকার মাইলফলক স্পর্শ করে। গত সপ্তাহে আড়াই লাখ টাকা পেরিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারেও সোনার দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু এরপর বিশ্ববাজারে সোনার দাম হঠাৎ করে কমতে থাকায় দেশের বাজারেও দাম কমানো হয়। আজ আবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও দাম বাড়ানো হয়।
গত সপ্তাহে সোনার দাম পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে নিয়োগ দেন, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনাকল্পনা। বাজারের আশঙ্কা ছিল, তিনি এমন একজনকে ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করতে পারেন, যিনি সুদের হার কমানোর বিষয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ মেনে নেবেন। এতে ডলারের মান কমে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতেই বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকেছিলেন।
কিন্তু ফেডের চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রাম্প কেভিন ওয়ারশকে মনোনয়ন দিতে পারেন—এই খবর আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় তাঁকে তুলনামূলকভাবে ‘নিরাপদ’ মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। এ খবরে সোনা, রুপা ও প্লাটিনামের দাম একযোগে কমে যায়।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সিএমই এক্সচেঞ্জে সোনাসহ মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে মার্জিন (জামানত) বাড়ানো হয়েছে। মার্জিন বাড়লে ব্যবসায়ীদের বেশি অর্থ আটকে রাখতে হয়। ফলে অনেকেই সোনা বিক্রি করে দেন—এতে দাম কমে। সিএমইতে মূল্যবান ধাতুর লেনদেনে মার্জিন চাহিদা বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
এত সব ধাক্কা কাটিয়ে আজ বিশ্ব স্পট মার্কেটে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১৪৩ ডলার বেড়ে ৪ হাজার ৮০৮ ডলারে উঠেছে। এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে।