
২০২৬ সালে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গতি বজায় রাখতে সময়োপযোগী ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং সেসব উদ্যোগের বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করছে সংগঠনটি। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন বছর ঘিরে এই প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছে বাণিজ্য সংগঠনটি।
শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে ঢাকা চেম্বার বলেছে, নির্বাচনকালীন ও পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশীয় উদ্যোক্তা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদারে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা, বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবেশ গঠন এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ডিসিসিআই। বিশেষ করে সিএমএসএমই খাতে সহজ ঋণপ্রাপ্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে সংগঠনটি।
জ্বালানি–সংকট ও উচ্চ মূল্যের কারণে শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে ডিসিসিআই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মূল্যনীতি, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার চাপ মোকাবিলায় কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা বিবেচনা ও প্রবাসী আয় বাড়াতে কার্যকর প্রণোদনার দাবি করেছে।
সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংকঋণ গ্রহণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে ঢাকা চেম্বার। রাজস্ব আয় বাড়াতে গিয়ে বিদ্যমান করদাতাদের হয়রানি না করার পাশাপাশি কর–ব্যবস্থার অটোমেশন, সংস্কার এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি সম্পাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।