লাভ-লোকসান নির্বিশেষে বার্ষিক লেনদেনের ওপর ন্যূনতম কর ১ শতাংশ থেকে কমানোর প্রস্তাব করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই ন্যূনতম কর না কমিয়ে বরং কর বাড়ানোর চাপ আছে বলে জানান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘এই কর না কমিয়ে উল্টো বৃদ্ধি করে আড়াই শতাংশ করার চিন্তা আছে।’
আজ রোববার সকালে আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে ছয়টি চেম্বারের সঙ্গে প্রাক্–বাজেট আলোচনায় এমন কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।
অনুষ্ঠানে অ্যামচেমের পাশাপাশি বাজেট প্রস্তাব দেয় ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ। অংশ নেয় বাংলাদেশ ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও ওমেন এন্টাপ্রেনিউরস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
আলোচনায় ওমেন এন্টাপ্রেনিউরস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে করপোরেট কর ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়। এ ক্ষেত্রে রপ্তানিমুখী পোশাক খাতে ১০ থেকে ১২ শতাংশ করপোরেট কর থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বেশি দিন তাদের করপোরেট কর ১০ থেকে ১২ শতাংশ থাকবে না।
অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনীতির তুলনায় রাজস্ব আয় বাড়ছে না। ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মূসক আয় সরকারি কোষাগারে আসছে না। তাই মূসক পরিধি বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করতে বলেন এ ব্যবসায়ী নেতা।
অ্যামচেমের পক্ষ থেকে মিষ্টি কোমলপানীয় জাতীয় পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার আহ্বান জানানো হয়। তবে দেহের জন্য ক্ষতিকর জানিয়ে এই প্রস্তাব নাকচ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
চায়না চেম্বারের পক্ষ থেকে দেশি কাপড় উৎপাদনে সুতার ওপর কেজিতে পাঁচ টাকার মূসক প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। ওমেন চেম্বারের পক্ষ থেকে সেবা খাতের ওপর মূসক ১৫ শতাংশ থেকে নারীদের জন্য ৪ শতাংশে আনার প্রস্তাব করা হয়। ওমেন এন্টাপ্রেনিউরস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নারীদের ভ্যাট রিটার্ন প্রতি মাসের বদলে বছরভিত্তিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।