ঈদে কাঁচাবাজার

সুগন্ধি চালের দাম এবার ২৩% বেশি

মানুষ ঈদের বাজার করতে মুদিদোকানে ভিড় করছেন। বিক্রেতারাও বাড়তি দাম চাচ্ছেন মাংস, কিছু মসলা ও মাছের।

ঈদের বাজারে এবার বেশি সুগন্ধি চালের দাম। খোলা ও প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল এবার কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন পরিবারগুলো সাধারণত সেমাই, পোলাও ও মাংস রান্না করে। কোনো কোনো পরিবার ইলিশ ও চিংড়ির মতো মাছও রাখে খাবারের পদে। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, এবার গরু ও মুরগির মাংসের দাম কিছুটা বেশি। সপ্তাহ দুয়েক আগের তুলনায় বেড়েছে মাংসের দাম।

বাজারে খোলা ও বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল বিক্রি হয়। কালিজিরা ও চিড়িগুঁড়া চালের এক কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে কোম্পানিভেদে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। অন্যদিকে খোলা চাল পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকায়।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুগন্ধি চালের প্রতি কেজির দর ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯০ থেকে ১৩০ টাকা। দাম বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে এক মাসে বেড়েছে ৮ শতাংশ। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার সুগন্ধি চালের দাম বেশি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে শুক্রবার অথবা শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। মানুষ ঈদের বাজার করতে মুদিদোকানে ভিড় করছেন। বিক্রেতারাও বাড়তি দাম চাচ্ছেন মাংস, কিছু মসলা ও মাছের। সয়াবিন তেলের সরবরাহ আগের মতোই কম।

রাজধানীর আদাবর কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে গতকাল বুধবার দেখা যায়, গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭৫০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৭০ টাকায়; আর ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৩০ টাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগি গত বছর ঈদে ২১০-২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

টাউন হল বাজারের মুরগি বিক্রেতা আক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ঈদ এলে এক সপ্তাহের জন্য মুরগির দাম বেড়ে যায়। প্রতিবছরই এটা হয়।

যদিও ক্রেতাদের অভিযোগ ছিল ভিন্ন। তাঁরা বলছেন, বাজারে কিছু ব্যবসায়ী একজোট হয়ে দাম বাড়িয়ে দেন। আবার কেউ কেউ কমিয়ে রাখেন। যেমন গতকাল মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৮৫০ টাকায়।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী আনোয়ার আলম বলেন, ঈদের আগে হঠাৎ গরুর মাংস ও মুরগির দাম বেড়ে গেছে। মাছের মধ্যে চিংড়ি ও ইলিশের দামও বেড়েছে।

মাছের বাজারে ক্রেতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ঈদ উপলক্ষে ইলিশ ও চিংড়ি মাছের কদর বাড়ে। তাই এই দুই ধরনের মাছের কেজিতে দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এর মধ্যে টাউন হল বাজারে মাঝারি আকারের ইলিশ প্রতিটি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২০০০ টাকা দাম চান বিক্রেতারা। অন্যদিকে এক কেজির আশপাশের ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা। একেবারে ছোট আকারের ইলিশের দাম কিছুটা কম। যদিও তা প্রতি কেজি এক হাজার টাকার বেশি। গলদা চিংড়ি আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়।

টাউন হল বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মনসুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ দিন আগেও প্রতি কেজি ৯০০ টাকায় পাইকারি দরে চিংড়ি মাছ কিনেছি। গতকাল কিনেছি ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে। ঈদ উপলক্ষে পরিবহন খরচ ও চাহিদা দুটিই বেড়েছে। তাই পাইকারেরাও বেশি দামে বিক্রি করছেন।’

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর এক কেজি ডিপ্লোমা গুঁড়া দুধের দাম ছিল ৮৯০ টাকা। এবার সেই গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের মসলা ব্যবসায়ী বিল্লাল হাসান বলেন, মসলার দাম তেমন বাড়েনি। তবে কিশমিশ, আলুবোখারা ও পেস্তা বাদামের দাম বেড়েছে।