
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর যোগদানপ্রক্রিয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল ‘রিভিউ’ হওয়ার গুঞ্জনে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগদান কার্যক্রম সম্পন্নের দাবিতে আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। একই সঙ্গে দেশের ৬১ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন তাঁরা।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ডোপ টেস্টসহ) এবং সব ধরনের সনদ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এর পরপরই যোগদান করার কথা থাকলেও দুই মাস ধরে পুরো প্রক্রিয়াটি থমকে আছে।
অনিশ্চয়তা ও রিভিউয়ের গুঞ্জন—
কয়েক দিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের এই ফলাফল আবার পুনরায় যাচাই করা হতে পারে। এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না থাকায় সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চাকরিপ্রার্থী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফলাফল প্রকাশের দুই মাস পর রিভিউয়ের এমন গুঞ্জন আমাদের মানসিক যন্ত্রণায় ফেলেছে। দীর্ঘ লড়াই শেষে নির্বাচিত হয়েও কেন আমরা ক্লাসরুমে ফিরতে পারছি না, তার সদুত্তর কারও কাছে নেই।’
স্মারকলিপি ও সংবাদ সম্মেলন—
দ্রুত যোগদানের তারিখ ঘোষণার দাবিতে ১৯ এপ্রিল সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে নিয়োগপত্র প্রদান করা হচ্ছে না। এর আগে ১৩ এপ্রিল একই দাবিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়েও স্মারকলিপি দিয়েছিলেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাঁরা বলেন, ৬১টি জেলার হাজারো প্রার্থীর মেডিক্যাল ও ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার পরও মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় তাঁরা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
এদিকে নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটাতে এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে আজ বেলা তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে এক সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা। প্রার্থীরা জানিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলন থেকে তাঁরা নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত যোগদানের জন্য আলটিমেটামসহ পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর কেন তাঁদের নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘রিভিউ’ গুঞ্জনের সত্যতা কতটুকু—সে বিষয়েও তাঁরা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করবেন।
মন্ত্রণালয়ের নীরবতা ও অধিদপ্তরের বক্তব্য—
যোগদানপ্রক্রিয়া কবে শুরু হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগের সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলেই যোগদান কার্যক্রম শুরু হবে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য ৩ জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন এবং চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নিয়োগের সুপারিশ পান। যদিও পরীক্ষাটি ঘিরে শুরু থেকেই ডিজিটাল জালিয়াতি ও ‘কেন্দ্র কনট্র্যাক্ট’–এর অভিযোগ ছিল, তবে গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সেই সময় অধিদপ্তর জানিয়েছিল।