
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে দুই শতাধিক প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। তারা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে অবস্থান চালিয়ে যাবেন।
এর আগে সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে থাকেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে যান এবং দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদানের দাবিতে অবস্থান নেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া আল মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা অধিকারবঞ্চিত হয়েছি। অনেক কষ্ট ও সংগ্রাম করে আমরা এতদূর এসেছি। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হোক।’
রাজশাহীর বাগমারা থেকে আসা প্রার্থী মোসা. খাদিজা বানু ১৫ মাস বয়সী সন্তানসহ এসেছেন। তিনি বলেন, আমার ১৫ মাস বয়সী সন্তান রয়েছে। তবুও দাবি আদায়ের আশায় এসেছি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে আমাদের। রাতে কোথায় থাকব জানি না। রাজপথে থাকার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়সংগতভাবে পুনর্বিবেচনা করে তাদের নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হোক। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের একজন তানভীর রহমান বাপ্পারাজ। তিনি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের বাদ দেওয়ার যেই কারণগুলো জানিয়েছেন সেই কারণ দেখিয়ে আমাদের বাদ দেওয়ার অধিকার কি সরকার রাখেন? তিনি বলেন, আমরা এক সরকারের আমলে পরীক্ষা দিয়েছি এবং আপনার আমলে নিয়োগ হচ্ছে বলে শুধু রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে? এই প্রশ্নটাই আপনার কাছে রেখে গেলাম।
তানভীর রহমান বলেন, আমরা যারা এখানে এসেছি, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মারামারি করতে আসিনি, কোনো বিশৃঙ্খলা করতেও আসিনি। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য এসেছি।নিয়োগপত্র না নিয়ে আমরা ঢাকা ছাড়ব না।
অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসুর) পক্ষ থেকে সংহতি জানিয়ে সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের বলেন, ‘এখানে যারা আছেন, তাঁদের সবাই পড়াশোনা করেছেন। তাঁরা কেউ কোনো ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, দেশবিরোধী কোনো কার্যকলাপেও যুক্ত নন কিংবা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তারপরও ভেরিফিকেশন নামক প্রহসনের মধ্য দিয়ে তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এটা সুস্পষ্ট জুলুম ও অন্যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে কেউ কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসেননি। প্রত্যেকেই ব্যক্তিগতভাবে জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁদের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা, রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার কথা নয়। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান, যাঁদের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে, দ্রুত সেই অন্যায়ের প্রতিকার করুন।’
গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলায় শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। এতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫–এর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন ২ হাজারের বেশি প্রার্থী।