অ্যামাজন
অ্যামাজন

১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে অ্যামাজন

চলমান চাকরির সংকটের মধ্যে অ্যামাজন নতুন করে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) এক ব্লগ পোস্টে এই তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেথ গ্যালেটি। এর আগে গত অক্টোবরে অ্যামাজন ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল।

২০২৩ সালের পর সবচেয়ে বেশি কর্মী ছাঁটাই

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৩ সালের পর এটিই অ্যামাজনের সবচেয়ে বড় ছাঁটাই। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি একসঙ্গে ২৭ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল। করোনা মহামারির সময় অনলাইন কেনাকাটা বাড়ায় অ্যামাজনের কর্মীসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল। তবে মহামারির পর ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রযুক্তি ও খুচরা খাতের বড় কোম্পানিগুলো ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করছে।

বেথ গ্যালেটি জানান, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কর্মীদের অভ্যন্তরীণভাবে নতুন পদ খোঁজার জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হবে। যাঁরা নতুন পদে যেতে পারবেন না বা যেতে চান না, তাঁদের জন্য সেভারেন্স পে, আউটপ্লেসমেন্ট সার্ভিস ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা রাখা হয়েছে।

কৌশলগত খাতে নিয়োগ অব্যাহত

ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু কৌশলগত খাতে নিয়োগ ও বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে অ্যামাজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, রোবোটিকস ও অটোমেশন, সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা প্রাইভেসির মতো খাতে নিয়োগ অব্যাহত রাখা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে স্থবিরতা

সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৫০ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে, যা নভেম্বরের সংশোধিত ৫৬ হাজারের কাছাকাছি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকলেও নতুন নিয়োগে কোম্পানিগুলোর অনীহা স্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত নিয়োগের প্রভাব, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার—সব মিলিয়ে চাকরির বাজারে চাপ আরও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই এআই ভবিষ্যতে কিছু চাকরি পরিবর্তন বা বিলুপ্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।