জীববিজ্ঞান

দশম শ্রেণীর পড়াশোনা: জীববিজ্ঞান

অধ্যায়-১৪প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমাদের জন্য আজ জীববিজ্ঞান বিষয়ের ১৪ নম্বর অধ্যায় থেকে সৃজনশীল পদ্ধতির একটি নমুনা প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হলো।# কনক স্কুল থেকে বাসায় ফিরে গরম থেকে রক্ষার জন্য এয়ারকুলার ছেড়ে দেয়। এ সময় তার বাবা রুমে প্রবেশ করেন এবং এয়ারকুলারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। কনক এয়ারকুলারের ক্ষতিকর দিকগুলো বুঝতে পেরে এর ব্যবহার সীমিত করল।প্রশ্ন: ক. ওজোন ঢাল কাকে বলে?প্রশ্ন: খ. CFC বলতে কী বোঝায়?প্রশ্ন: গ. কনকের ব্যবহূত যন্ত্রটি কীভাবে মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিসাধন করে? বর্ণনা দাও।প্রশ্ন: ঘ. কনকের ব্যবহূত যন্ত্রটি পরিবেশে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে? বিশ্লেষণ করো।উত্তর: ক. ভূপৃষ্ঠের ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার ওপরে বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার অঞ্চলে ওজোন গ্যাসের একটি ঘন স্তর আছে, যা পৃথিবীকে চারদিক থেকে ঢেকে রেখেছে। এই স্তরকে ওজোন ঢাল বলে।উত্তর: খ. CFC-এর পুরো নাম হলো ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন। এটি ওজোন স্তর ক্ষতির জন্য দায়ী। CFC যৌগগুলো বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে সহজে ভাঙে না। স্ট্রাটোস্ফিয়ার অঞ্চলে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির সংস্পর্শে এসে CFC ভেঙে ক্লোরিন ছেড়ে দেয়। মুক্ত ক্লোরিন পরমাণু তখন অনুঘটক হিসেবে কাজ করে ওজোন অণুকে ভেঙে একটি অক্সিজেন অণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু সৃষ্টি করে। এভাবে CFC ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।উত্তর: গ. কনকের ব্যবহূত যন্ত্রটি এয়ারকুলার। এটি একটি দরকারি যন্ত্র হলেও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে এটি বিভিন্নভাবে পরিবেশ তথা মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিসাধন করে থাকে।যেমন—১. যন্ত্রটি থেকে নির্গত CFC গ্যাসের কারণে ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই স্থান দিয়ে অতিবেগুনি রশ্মি খুব সহজেই ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাবে। এটি জীবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। UV-A ও UV-B-এর পরিমাণ বেড়ে গেলে ত্বকের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।২. শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। বিভিন্ন সংক্রামক রোগের সংক্রমণ বেড়ে যায়। এ কারণে মানসিক দুর্বলতা বৃদ্ধি পায়।৩. UV-B-এর কারণে চোখের বিভিন্ন রোগ (যেমন: ছানি পড়া, লেন্সের বিকৃতি ও দৃষ্টিহীনতা) বেড়ে যায়।উত্তর: ঘ. কনকের ব্যবহূত যন্ত্রটি এয়ারকুলার। এটি থেকে CFC গ্যাস নির্গত হয়, যা পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। CFC গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ কারণে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সহজেই ভূপৃষ্ঠে প্রবেশ করে। CFC বা ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন গ্যাস বেড়ে যাওয়ার কারণে গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, যা পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলে। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:১. গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করবে। এ কারণে সমুদ্রতলের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক দ্বীপ, উপকূলীয় এলাকা, দেশ ও শহর পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে অনেক জীবন ও জনবসতি বিপন্ন ও ধ্বংস হবে।২. ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মাটিতে পানির পরিমাণ কমে যাবে। এ কারণে সব ভূমি মরুভূমিতে পরিণত হবে। এতে ফসলের উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে।৩. বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব ক্ষতিকর অক্সাইডগুলো বৃষ্টির পানির সঙ্গে অ্যাসিড-বৃদ্ধি হিসেবে ভূপৃষ্ঠে পতিত হবে। এ কারণে জমির উর্বরতা হ্রাস পাবে এবং ফসলের উৎপাদন কমে যাবে।৪. ঋতুচক্র পাল্টে যাবে এবং আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে। এ কারণে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন: বন্যা, জলোজ্জ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি) সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাবে।