প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫। বাংলা: মূল ভাব লিখন

পুরো নম্বর পেতে মূল ভাব বুঝে লেখো

বাংলা: মূল ভাব লিখন

প্রিয় শিক্ষার্থী, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে ৯ নম্বর প্রশ্নটি থাকবে কবিতা বা গদ্য অনুচ্ছেদের মূল ভাব লেখার ওপর।

প্রশ্ন: ‘সবার আমি ছাত্র’ কবিতাটির মূল ভাব লেখো।

উত্তর: জন্ম থেকেই মানুষ নানাভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার প্রাথমিক পাঠ আমরা আপন পরিবেশ ও প্রকৃতি থেকেই লাভ করি। অসীম আকাশ আমাদের উদারতার শিক্ষা দেয়। বাতাস নিরন্তর বয়ে চলার মধ্য দিয়ে কর্মপ্রেরণা জোগায়। পাহাড়ের বিশালতা আমাদের মহত্ত্ব অর্জনের উদ্দীপনা জোগায়। সূর্য আমাদের আপন শক্তিতে বলীয়ান হতে শিক্ষা দেয়, ত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। চাঁদের মনভোলানো মধুর হাসি দেখে আমরা মধুর ব্যবহারের শিক্ষা পাই। সবুজ বন শেখায় মনকে সজীব রাখতে। মাটি শেখায় সহনশীল হতে। পাথরের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করি দৃঢ়চিত্ত হওয়ার। এভাবে আমরা আমাদের চারপাশের সব বস্তু ও ব্যক্তির কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করি।

প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদটির মূল ভাব লেখো।

মামা বললেন, তোমাদের কাল কুমারপাড়ায় নিয়ে যাব। পরদিন আমরা কুমারপাড়া দেখতে গেলাম। আনন্দপুর গ্রামের উত্তর দিকে ৮ থেকে ১০টা বসতবাড়ি। এই নিয়ে কুমারপাড়া। এখানে সবাই ব্যস্ত। কেউ মাটির তাল চাক করে সাজিয়ে রাখছেন। কেউবা কাঠের চাকায় মাটি লাগিয়ে নানা আকারের পাত্র বানাচ্ছেন। কেউবা এগুলো সারি সারি করে শুকাতে দিচ্ছেন রোদে। পাশেই রয়েছে মাটির জিনিস পোড়ানোর চুলা। উঁচু ছোট্ট ঢিবির মতোই চুলা। মাটির পোড়া গন্ধ পাচ্ছি। আর ধোঁয়া বেরোচ্ছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও কাজ করছে। মামা বললেন, হাঁড়ি–কলসি ছাড়াও আমাদের দেশে একসময় টেরাকোটার কাজ হতো। নকশা করা মাটির ফলক ইটের মতো পুড়িয়ে তৈরি করা হতো এই টেরাকোটা। শালবন বিহার, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরে এই টেরাকোটার কাজ রয়েছে। ছোট ছোট ফলককে পাশাপাশি জোড়া দিয়ে বড় করা যায়। মামা বললেন, এসব কাজ এ দেশে শুরু হয়েছে হাজার বছর আগে।

মূল ভাব: মামা তাঁদের কুমারপাড়া দেখাতে নিয়ে গেলেন। সেখানে সবাই মাটি দিয়ে পাত্র বানাচ্ছে, শুকাচ্ছে এবং পোড়ানোর কাজ করছে। মামা জানান, একসময় আমাদের দেশে মাটির ফলক ইটের মতো পুড়িয়ে টেরাকোটার কাজও হতো। শালবন বিহার, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও কান্তজিউ মন্দিরে এসব দেখা যায়। এসব কাজ হাজার বছর আগে শুরু হয়েছিল।

  • মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা