বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
হাবিব ও মালেক বাল্যবন্ধু। দুজনই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। পেশাগত জীবনে সুমন বড় ব্যবসায়ী। গাড়ি, বাড়ি, টাকাকড়ি—কোনো কিছুরই অভাব নেই তার। সবাই তাকে এক নামে চেনে আর কবির শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। গত সিডরে তাদের গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এ সময় কবির তার ছাত্রদের নিয়ে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে অসহায় মানুষদের কাছে পৌঁছে দেয়। তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে।
প্রশ্ন
ক. মানবজীবনে মুক্তির জন্য মোতাহের হোসেন চৌধুরী কয়টি উপায়ের কথা বলেছেন?
খ. আত্মার অমৃত উপলব্ধি করা যায় না কেন?
গ. উদ্দীপকের হাবিবের মধ্যে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের যে দিকটি প্রকাশিত, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘মালেকের কাজে শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিকটি উপস্থিত।’—‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
ক. মানবজীবনে মুক্তির জন্য মোতাহের হোসেন চৌধুরী দুটি উপায়ের কথা বলেছেন।
খ. ক্ষুৎপিপাসা থেকে মুক্ত হতে না পারলে আত্মার অমৃত উপলব্ধি করা যায় না।
মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, মানুষের দুটি সত্তাই জীবসত্তা ও মানবসত্তা। জীবসত্তার দাবি অন্নবস্ত্রের সমাধান। মানবসভ্যতার বিকাশের জন্য এই অন্নবস্ত্রের সমাধান জরুরি। কারণ, মানুষের ক্ষুৎপিপাসার সমাধান না হলে মানবসত্তা তার কাছে বড় হয়ে ওঠে না। তাই ক্ষুৎপিপাসায় কাতর মানুষটিকে তৃপ্ত রাখতে না পারলে আত্মার অমৃত উপলব্ধি করা যায় না।
গ. উদ্দীপকের হাবিবের মধ্যে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে বর্ণিত জীবসত্তার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী মানুষের জীবনে জীবসত্তা ও মানবসত্তার তুলনামূলক বাস্তবতা বর্ণনা করেছেন। শিক্ষা মানুষকে জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে উন্নীত করতে পারে। শিক্ষা তাকে ক্ষুৎপিপাসা থেকে মুক্ত করে মনুষ্যত্বের স্বাদ দিতে পারে।
উদ্দীপকের হাবিব উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও জীবসত্তার দাবি হিসেবে অর্থকেই বড় করে দেখেছে। বড় ব্যবসায়ী হয়েও সিডরে লন্ডভন্ড গ্রামবাসীকে সাহায্য না করে বরং অল্প মূল্যে দরিদ্র মানুষের জমি কিনে নিয়েছে। প্রাবন্ধিক মানুষের এ ধরনের প্রবৃত্তিকে জীবসত্তার দিক হিসেবেই বিবেচনা করেছেন।
ঘ. নিজের শিক্ষাকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার না করে মনুষ্যত্বের দাবি পূরণ করায় কবিরের কাজে উপস্থাপিত হয়েছে শিক্ষার অপ্রয়োজনের দিকটি।
মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে শিক্ষার দুটি দিকের কথা বলা হয়েছে। এর একটি হলো প্রয়োজনের দিক আরেকটি হলো অপ্রয়োজনের দিক। প্রাবন্ধিকের মতে, শিক্ষার অপ্রয়োজনের দিকটিই বড়।
উদ্দীপকের মালেক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে শিক্ষকতার মতো সেবামূলক পেশাকে বেছে নিয়েছেন। তা ছাড়া গ্রামবাসী যখন সিডরকবলিত হয়েছে, তখন তিনি তাঁদের সেবায় এগিয়ে এসেছেন। তিনি চাইলে শিক্ষাকে তাঁর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন, এখানেই ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিকটির প্রকাশ রয়েছে।
‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে মানুষের বিবেকবোধসম্পন্ন কাজের কথা বলা হয়েছে। লেখক মনে করেন, শিক্ষার অপ্রয়োজনের দিকটিই তার শ্রেষ্ঠ দিক। কেননা, এ দিকই মনুষ্যত্ববোধ দ্বারা চালিত হয়। উদ্দীপকের মালেক সমাজকে শিক্ষিত করে তোলা ও মানুষদের সেবার মাধ্যমে শিক্ষার সেই অপ্রয়োজনের দিকটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
লেখক: মো. আবু সুফিয়ান, শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা