
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ না করলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজীজি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে এবং প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন আজীজি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করে। কমিশনের সভাপতি করা হয় সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে। কমিশনকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান বেতন–ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা পর্যালোচনা করে তাঁদের জন্য একটি সময়োপযোগী বেতনকাঠামো নির্ধারণপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জোটের সদস্যসচিব বলেন, পে স্কেলের অংশীজন হওয়ার কারণে ছয় লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর প্রতিনিধি হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের নেতাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আহ্বান জানালে তাঁরা জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর চেয়ারম্যানসহ অন্য সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের দাবিদাওয়া ও প্রস্তাবনা কমিশনের কাছে উপস্থাপন করেন। কমিশন প্রস্তাবনাগুলো তাদের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে জোটের নেতাদের আশ্বাস দেয়।
দেলোয়ার হোসেন আজীজি আরও বলেন, ২০০৯ সালে সপ্তম পে স্কেল ঘোষিত হয়েছিল। এর ৬ বছর পর ২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল ঘোষিত হয়েছে। এরপর ১১ বছর যাবৎ কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। অথচ এ সময়ের মধ্যে দুটি পে স্কেল ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। এভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি বন্ধ করা হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে এবং রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
এই শিক্ষকনেতার দাবি, ‘আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পেশাজীবী গোষ্ঠী। আমাদের রয়েছে ছয় লক্ষাধিক পরিবারের অর্ধকোটি সদস্য। কিন্তু আমরা সরকারের বেতনভোগী পেশাজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করা হলেই কেবল আমাদের বঞ্চনার অবসান হবে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুরোধ করছি। যারা এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্য উন্নয়নের কথা চিন্তা করে নির্বাচনী ইশতেহারে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করবে, শিক্ষকসমাজ তাদের পাশেই থাকবে।’
এই শিক্ষকনেতা বলেন, আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ৫ ফেব্রুয়ারি সারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এরপরও সরকার দাবি মেনে না নিলে জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম আহ্বায়কদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মাধ্যমিক কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. মতিউর রহমান, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক মো. নুরুল আমিন হেলালী, বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ রাজু।
যুগ্ম সদস্যসচিবদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন, প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার, মো. শান্ত ইসলাম, মো. আশরাফুজ্জামান হানিফ, মো. ইমরান হোসেন ও জোটের ঢাকা উত্তরের সমন্বয়ক মো. বাছির উদ্দিন।
এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খায়ের আহম্মেদ মজুমদার, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, বাংলাদেশ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নির্বাহী সমন্বয়ক এম এ মান্নান, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র আবদুল মালেক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব-১ আশিকুল ইসলামসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।