শিক্ষা মন্ত্রণালয়
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

২০২৫ সালের ৬ মাসের প্রতিবেদন

৯৭৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অডিটে ধরা পড়ল ৯০ কোটি টাকার দুর্নীতি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) এক প্রতিবেদনে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের চিত্র ধরা পড়েছে। গত বছরের শেষ ছয় মাসে (১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত) পরিচালিত এসব তদন্তে সরকারি অর্থ লোপাটের পাশাপাশি ১৭৬ একর সরকারি জমি বেহাত এবং জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে।

৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তালিকা প্রকাশ করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। ২০২৫ সালের শেষ ৬ মাসের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য জায়গা পেয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে জাল বা ভুয়া সনদ, অগ্রহণযোগ্য সনদ, অবৈধ নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ, ভ্যাট-আইটিসহ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।

গতকাল রোববার (১ মার্চ ২০২৬) এ–সংক্রান্ত প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠানো মোট ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা বা তদন্ত প্রতিবেদনের তালিকা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর/মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর/কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে), সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে ডি-নথিতে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে/ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর ই-মেইলে), সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসে ডি-নথিতে, সভাপতি (ব্যবস্থপনা কমিটি/গভর্নিং বডি) এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ই-মেইলে (ব্যানবেইস জরিপে প্রদত্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ ই-মেইলে) পাঠানো হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের মধ্যে জাল/ভুয়া সনদ, অগ্রহণযোগ্য সনদ, ভুয়া নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ, ভ্যাট–আইটিসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের কারণে প্রায় ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ প্রদানসহ বেহাত হওয়া প্রায় ১৭৬ দশমিক ৫২৩ একর জমি উদ্ধারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

যদি প্রকাশিত তালিকার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট ই-মেইলে পাওয়া না যায়, তাহলে নিজ নিজ জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করে (জেলা শিক্ষা অফিসের ডি-নথি সিস্টেম থেকে ডাউনলোড করে) সংগ্রহ করা যেতে পারে। এ ছাড়া যদি জেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রতিবেদন সংগ্রহ করা সম্ভব না হয়, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লেটার হেড প্যাডে পরিচালক, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর বরাবর প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য আবেদন করে ওই আবেদনের কপি director@dia.gov.bd ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

ই-মেইলে ওই আবেদন পাওয়ার পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ অধিদপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে আবার প্রতিবেদন পাঠানো হবে। প্রয়োজনে টেলিফোনে (০২৪১০৫৩৩৪৭) যোগাযোগ করা যেতে পারে।