
দোতারায় কয় তার? প্রশ্নেই উত্তর উঁকি দিচ্ছে। কিন্তু ইদানীং বাউল শফি মণ্ডল যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন দেখা যায় তাঁর দোতারায় তিন তার! দুই তার দিয়ে সুর ওঠে, এক তারে সেই সুর আরও জোরালো হয়ে পৌঁছায় শ্রোতার কানে। শফি মণ্ডলের তৃতীয় তারটি বৈদ্যুতিক সংযোগের। কেবল বাদ্যযন্ত্রেই নয়, গানের বেলায়ও প্রযুক্তির সহযোগিতায় শফি মণ্ডল গাইছেন মানুষের গান, মানুষের জন্য গান।
মঙ্গলবার চ্যানেল আইয়ের ‘বিজয় মেলা’য় প্রকাশিত হলো তাঁর তৃতীয় অ্যালবাম। নাম গুরু গো। এর সংগীতায়োজন করেছেন ডিজে রাহাত। অ্যালবামের গানে আছে লালন শাহ, শাহ আবদুল করিমের গানসহ কয়েকটি লোকগান।
শফি মণ্ডলের ভাষায়, ‘মূলধারায় থেকে, আধুনিক বাদ্যযন্ত্র আর সংগীতায়োজনে গানগুলো করা হয়েছে। এর একটাই উদ্দেশ্য, গানগুলো মানুষের গান, তাই সেই গানগুলোর বাণী যেন সব ধরনের মানুষের কাছে পৌঁছায়। নতুন প্রজন্ম নতুন বাদ্যযন্ত্র শুনে অভ্যস্ত। তারা যেন নতুন আঙ্গিকে পুরোনো গানগুলো শুনতে পায়, সে জন্যই এই প্রয়াস। এ ক্ষেত্রে রাহাত ভাইয়ের (ডিজে রাহাত) কথা বলতে চাই ভালোবাসার সঙ্গে।’
অ্যালবাম করা হবে ভেবে গানগুলো করেননি শফি মণ্ডল কিংবা রাহাত। প্রথমে একটা-দুটো গান করার পর রাহাতই আরও কিছু গান করার প্রস্তাব দেন। এভাবেই এক-দুই করে জমে যায় কয়েকটি গান। তারপর একসময় অ্যালবামের ভাবনা।
লালন শাহ, শাহ আবদুল করিম ও লোকগানের ফিউশন নিজের গলায় শুনে কী মনে হলো?
শফি মণ্ডলের জবাব, ‘ভালো লেগেছে। আগে বাতাস, প্রকৃতি স্থির ছিল। কিন্তু এখন প্রকৃতি অস্থির। মানুষ এখন চলছে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে। ফলে আমাদের, অর্থাৎ বাউলদেরও উচিত সময়ের সঙ্গে চলা। মানুষের জন্য গান করি, তাই মানুষের জন্য যে প্রযুক্তি তা ব্যবহার করা জরুরি বলেই মনে করি আমি।’
শফি মণ্ডলের এই বিশ্বাস আরও অনেক বাউলের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়েছে। ফলে এখন অনেকেই আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করছেন, তবে বাউলগানের ধারাটা বজায় রেখে। শফি মণ্ডলের ভাষায়, ‘আমরা বাউলেরা কণ্ঠ দিয়ে গান করি না, গান করি হৃদয় দিয়ে। তেমনি শ্রোতারাও কিন্তু আমাদের গান হৃদয় দিয়েই শোনেন, উপলব্ধি করেন।’
আর এ কারণেই কি শফি মণ্ডল গ্রামে, নগরে—সব জায়গায় সমানতালে গেয়ে চলেছেন? দুই ভুবনেই সফল? স্বভাবসুলভ বিনয় দেখিয়ে বিষয়টা পুরোপুরি মানলেন না শফি মণ্ডল। বললেন, ‘সাঁইজির গানগুলো যখন গাই, তখন তা ভেতরে প্রতিষ্ঠা করে নিই। ভালোবাসা থেকে গাই। আশা করি, আমার শ্রোতারাও সমান ভালোবাসা নিয়ে শোনেন। এ কারণেই হয়তো সব জায়গায় সমান সাড়া পাই।’
গুরু গো অ্যালবামটা প্রকাশ করেছে নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ব্লু ওয়াটার রেকর্ডস। পরিবেশনায় ইমপ্রেস অডিও ভিশন।