
বলিউড ইতিহাসে আজ যে ছবিকে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয়, সেই ‘জঞ্জির’ একসময় ছিল চরম অনিশ্চয়তার প্রতীক। আর এই অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, যাঁকে নিয়ে নির্মাতাদের আস্থাই ছিল না।
সত্তরের দশকের শুরুতে অমিতাভ তখনো প্রতিষ্ঠিত নন। একের পর এক ফ্লপ ছবির কারণে প্রযোজকদের কাছে তিনি ছিলেন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পছন্দ। ফলে প্রকাশ মেহরা যখন তাঁকে ‘জঞ্জির’-এর নায়ক হিসেবে নেন, তখন অনেক প্রযোজকই পিছিয়ে যান।
এমনকি কেউ কেউ সরাসরি অর্থায়ন বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে দাঁড়ায় যে পরিচালক নিজের বাড়ি, এমনকি স্ত্রীর গয়নাও বন্ধক রাখেন সিনেমাটি শেষ করার জন্য।
প্রকাশ মেহরার ছেলে পুনিত মেহরা জানান, সে সময় অমিতাভ ফ্লপ ছবির নায়ক। একটি হিটও নেই ঝুলিতে। তাঁকেই কিনা ছবির নায়ক করলেন প্রকাশ! পুনিত বলেন, ‘বাবাকে লোকে যাচ্ছেতাই গালিগালাজ করেছিল। এ-ও বলেছিল, বাবার নাকি ভীমরতি ধরেছে, তাই এমন ছবিতে এ রকম ব্যর্থ নায়ককে নিচ্ছে!’
অমিতাভের তখন তেমন কোনো পরিচিতিই নেই বলিউডে। এমন অনামী অভিনেতাকে নায়ক হিসেবে কেন বাছাই করেছিলেন প্রকাশ? পুনিত জানান, নায়ক খুঁজতে নাজেহাল প্রকাশকে অমিতাভের কথা বলেন অভিনেতা প্রাণ। তিনিই বলেছিলেন ‘বম্বে টু গোয়া’ ছবিটা দেখতে। হয়তো সেখান থেকেই নায়কের খোঁজ পেতে পারেন প্রকাশ। এরপর দুজনে মিলেই ছবিটা দেখতে যান। পুনিতের কথায়, ‘ প্রাণ সাহেব পরে বলেন, বাবা নাকি ছবির একটা দৃশ্য দেখতে দেখতে লাফিয়ে ওঠেন! চেঁচিয়ে ওঠেন, “পেয়ে গেছি!” তারপরই অমিতাভকে নায়ক করেন বাবা।’
এখানেই শেষ নয়; এই চিত্রনাট্য একসময় ধর্মেন্দ্র কিনেছিলেন মাত্র ৩ হাজার ৫০০ রুপিতে, কিন্তু পরে তা আর করেননি। তবে এত কিছুর পরে ছবিটি নির্মিত হলেও শুরুতে অনেকের আশঙ্কা সত্যি হয়—‘জঞ্জির’ ফল করে।
এই ব্যর্থতার ধাক্কায় অমিতাভ বচ্চন অসুস্থ হয়ে পড়েন, আর প্রকাশ মেহরাকে নিয়ে এমন গুজবও ছড়ায় যে তিনি নাকি আত্মহত্যা করতে পারেন! কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছবিটি দর্শকের মন জয় করে নেয়। বাকিটা ইতিহাস। ‘জঞ্জির’-এই জন্ম হয় ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’-এর, যে রাগী যুবক তারপর বেশ কয়েক দশক শাসন করবেন বলিউড! কেবল তা–ই নয়, এ ছবির প্রেরণায় ভারতের নানা প্রান্তে তৈরি হয় বহু সিনেমা।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে