
বলিউডের বহুমাত্রিক শিল্পী পীযূষ মিশ্র নিজের ব্যক্তিজীবনের এক কঠিন অধ্যায় নিয়ে আবারও খোলামেলা কথা বললেন। নিজের ভুল, সম্পর্কের ভাঙন আর দীর্ঘ সময়ের আত্মসমালোচনার গল্প তিনি তুলে ধরেছেন এমন এক সোজাসাপটা ভঙ্গিতে, যা একদিকে ব্যক্তিগত, অন্যদিকে অনেকের জীবনের প্রতিচ্ছবি।
সম্প্রতি তাঁর উপন্যাসধর্মী স্মৃতিকথা ‘তুমহারি আকাত কেয়া হ্যায়, পীযূষ মিশ্র’-এ তিনি বিবাহিত জীবনের নানা টানাপোড়েন, বিশেষ করে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে প্রসঙ্গ অকপটে লিখেছিলেন। এবার এক সাক্ষাৎকারে সেই কথাগুলোকেই আরও বিস্তৃত করে তুলে ধরলেন। জানালেন, একসময় তিনি ভালো স্বামী ছিলেন না, বরং দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আর ভুল সিদ্ধান্তে নিজেই নিজের সংসারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিলেন।
পীযূষের ভাষায়, ‘এখন আমি একজন ভালো স্বামী। কিন্তু আগে ছিলাম না। তখন কোনো দায়িত্ববোধই ছিল না। অথচ বিয়ে একটি বড় দায়িত্ব।’
তরুণ বয়সের প্রেম আর পরিণত বয়সের ভালোবাসার পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশের কোঠার প্রেমে যুক্তির চেয়ে আবেগই বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসার সংজ্ঞাও বদলে যায়, তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সেই মানুষটি, যিনি আপনার সঙ্গে বার্ধক্য পর্যন্ত পথ চলতে রাজি।’
স্ত্রী প্রিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও উঠে আসে এই লেখায়। পীযূষ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেননি। পরকীয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ও তিনি লুকিয়ে রেখেছিলেন বহু বছর। কিন্তু একসময় নিজের কাছে আর সত্য গোপন রাখা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত সবকিছু খুলে বলেন স্ত্রীকে, আর সেই স্বীকারোক্তির মুহূর্তেই ভেঙে পড়েন তিনি।
এই স্বীকারোক্তি শুধু অনুশোচনার জায়গা থেকেই নয়, বরং সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তোলারও সূচনা ছিল। পীযূষ মনে করেন, সত্য বলা যতই কঠিন হোক, সেটিই সম্পর্কের ভিত মজবুত করে। তাঁর কথায়, সততাই শেষ পর্যন্ত তাঁদের সম্পর্ককে আবার দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর এসে তিনি উপলব্ধি করেছেন, পাশে থাকা মানুষটিকেই সত্যিকারের মূল্য দিতে হয়। আর সেই উপলব্ধিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে