বলিউডে নায়িকাদের শারীরিক রূপান্তর নতুন কিছু নয়। কিন্তু ‘ককটেল ২’-এর ‘অ্যালি’ চরিত্রের জন্য কৃতির প্রস্তুতি ছিল একটু আলাদা। পরিচালক চেয়েছিলেন এমন এক তরুণীকে, যিনি একই সঙ্গে ফিট, আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত। ফলে ওজন কমানোর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় শরীরের গঠন, শক্তি ও পর্দায় উপস্থিতি। এবার মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটির ট্রেলার। যেখানে বিকিনিতে কৃতিকে দেখে চমকে গেছেন ভক্তরা। অনেকেই তাঁর পর্দায় উপস্থিতির প্রশংসা করছেন।
কৃতির দীর্ঘদিনের ফিটনেস কোচ ও ভারতীয় ফুটবলার করণ সাওহনি জানিয়েছেন, এই ছবির জন্য অভিনেত্রীকে সপ্তাহে ছয় দিন প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। লক্ষ্য ছিল শরীরকে এমনভাবে টোনড করা, যাতে অ্যাবস স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে না যায়। কৃতির রুটিনে ছিল ভারী স্ট্রেংথ ট্রেনিং, ইনক্লাইন ওয়াক এবং জোন-২ কার্ডিও। সাধারণত দ্রুত ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অনেকেই অতিরিক্ত কার্ডিওর ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু কৃতির ক্ষেত্রে কোচ সেই পথ বেছে নেননি।
বরং পেশি ধরে রেখে ধীরে ধীরে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর পরিকল্পনা করা হয়। ইনক্লাইন ওয়াক ছিল সেই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ট্রেডমিলের উঁচু ঢালে হাঁটা শরীরকে বেশি ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে, আবার পেশিও রক্ষা করে।
কোচের ভাষায়, কৃতি ছিলেন ‘ক্যালোরি ডেফিসিট’-এ, অর্থাৎ তিনি যত ক্যালোরি খরচ করতেন তার চেয়ে কম ক্যালোরি গ্রহণ করতেন। তবে ডায়েট ছিল উচ্চ প্রোটিননির্ভর। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার শরীরের পেশি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে ওজন কমলেও শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে না। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও সারা দিন সক্রিয় থাকার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
একসময় বলিউডে ‘সাইজ জিরো’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হতো। কিন্তু কৃতির কোচ স্পষ্টভাবে বলেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল না অতিরিক্ত রোগা হওয়া। তাঁর কথায়, ‘খুব বেশি ওজন কমে গেলে মুখের স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে পারে। আবার শরীর যদি যথেষ্ট টোনড না হয়, তবে চরিত্রের প্রয়োজনও পূরণ হয় না। আমরা এই দুইয়ের মাঝখানে ভারসাম্য খুঁজেছি।’
এ কারণেই কৃতির ডায়েট ও ব্যায়াম পরিকল্পনা প্রতি সপ্তাহে নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়েছে। পরিচালকের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে শরীরের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
কোচ করণ সাওহনির মতে, পুরো যাত্রার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল কৃতির শৃঙ্খলা। প্রতিদিন নিয়ম মেনে অনুশীলন, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম—সবকিছুই তিনি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করেছেন।
২০১২ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ককটেল’। যে সিনেমায় সাইফ আলী খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়ানা পেন্টির প্রেম-বন্ধুত্বের আখ্যান ধরা পড়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আসছে সেই সিনেমার সিক্যুয়েল। ছবিতে কৃতি ছাড়াও আছেন রাশমিকা মান্দানা ও শহীদ কাপুর।
হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পাবে ১৯ জুন।
এনডিটিভি অবলম্বনে