পুরস্কার পেয়ে বিব্রত...

পরিচালক নিয়ামুল মুক্তা। ছবি: ফেসবুক থেকে
পরিচালক নিয়ামুল মুক্তা। ছবি: ফেসবুক থেকে

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা। এই পুরস্কারের তালিকায় নিজের নাম দেখে অবাক পরিচালক নিয়ামুল মুক্তা। তাঁর নির্মিত ‘রক্তজবা’ সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখার জন্য তিনি সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে এই পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর জন্য এটি সুখবর মনে করা হলেও এই পরিচালক এই পুরস্কার পেয়ে বিব্রত। এই তিনি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করছেন।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি হতে থাকে ‘রক্তজবা’ সিনেমার চিত্রনাট্য পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার লেখা নয়, অথচ তাঁকেও পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সত্যতা জানতে সেদিন রাতেই কথা হয় নিয়ামুল মুক্তার সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে জানান, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণার পর থেকেই তাঁর নাম দেখে বন্ধু–সহকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, যা তাঁর জন্য বিব্রত। ‘পুরস্কার তালিকায় নিজের নাম দেখে আমি বিব্রত।’ তিনি জানান, এই পুরস্কার জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এটা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জমা দিয়েছে। এটি জমা দেওয়ার সঙ্গে কোনো ভাবেই তিনি যুক্ত নন।

সিনেমার পোস্টার।

এই সময় মুক্তা আরও বলেন, ‘আমার সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা তাসনীমুল হাসানের। এই পুরস্কার তাঁর পাওয়ার কথা। এটা কোনোভাবেই আমার অর্জন নয়। যে কারণে আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করব না। এটি আমি প্রত্যাখ্যান করছি।’

এই পুরস্কারের তালিকার নাম নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা রকম প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রসঙ্গ সামনে এনে নিয়ামুল মুক্তা বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রায় সময়ই দেখা যায়, জাতীয় পুরস্কারের জন্য বিভিন্ন শাখায় যাঁদের অবদান থাকে, তাঁদের বাদ দিয়ে এক শ্রেণি নিজেদের স্বার্থে নিজের বা অন্যের নাম দেয়। এই সংস্কৃতি এখানে আছে, কিন্তু আমি তো এমনটা করিনি, আমার সঙ্গে যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁরা আমাকে ভুল বুঝবেন। মনে করবেন আমিই ইচ্ছা করে হয়তো সিনেমাটি পুরস্কারের জন্য জমা দিতে আমার নাম যোগ করেছি। এটা কোনো ভাবেই সত্য নয়। আমি চাই যাঁর অবদান, সেই স্বীকৃতি পাবেন।’

যে কারণে পুরস্কারের তালিকা দেখার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘটনা ব্যাখ্যা করতে আসল চিত্রনাট্যকার তাসনীমুল হাসানকে ফোন দিয়েছেন। তাঁকে জানিয়েছেন, এ ঘটনার পেছনে তাঁর কোনো দোষ নেই। তিনি নিজে কোনো নাম পরিবর্তন করে সিনেমাটি পুরস্কারের জন্য জমা দেননি। ‘আমাদের সম্পর্কটা গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনো ভুল–বোঝাবুঝি থাকুক, আমি চাই না। সে ভাবতেই পারে আমি হয়তো ক্রেডিট নিচ্ছি। কিন্তু আমি অন্যের ক্রেডিট নিতে চাই না। যে কারণে আমি আমার নাম দেখার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ফোন দিয়েছি। এটাও বলেছি। তাকেই পুরস্কার দেওয়া উচিত। আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করছি।’

পরিচালক নিয়ামুল মুক্তা। ছবি: ফেসবুক থেকে

চিত্রনাট্যকার তাসনীমুল হাসান সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা করতে দেশের বাইরে আছেন। তিনি আজ ভারত থেকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের “রক্তজবা” সিনেমাটি সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে পুরস্কার জিতেছে, এটা আমাদের জন্য সম্মানের। আমরা টিমের সবাই খুবই আনন্দিত। কিন্তু এখানে সেরা চিত্রনাট্যকারের নাম হিসেবে পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার নাম এসেছে। এটা আসলে আমার লেখা। এটা নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা একটা পদক্ষেপে যাব। আমরা চাচ্ছি এটার সঠিকভাবে সংশোধন হোক। সংশোধন করে নতুন করে এই তালিকা প্রকাশ হোক, সেটাই প্রত্যাশা।’

এই প্রসঙ্গে জানতে দায়িত্ব থাকা এক কর্মকর্তা আজ দুপুরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমন কোনো কিছু আমি শুনিনি। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী হবে, সেটাও আমি আপাতত বলতে পারছি না।’ তবে আরেক কর্মকর্তা জানান, ‘এটা কীভাবে জমা দেওয়া হয়েছিল, সেটা দেখতে হবে। তাহলেই বোঝা যাবে ভুলটা কীভাবে হলো। অফিস খুললেই এ বিষয়ে কথা বলতে পারব। তখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব।’