১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার এফডিসিতে তোলা ছবিতে মৌসুমী, সালমান শাহর মৃত্যুসংবাদ শুনে কাঁদছিলেন তিনি, এ সময় সাথে ছিলেন চিত্রনায়ক স্বামী ওমর সানি (ডানে) ও পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার (বামে)
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার এফডিসিতে তোলা ছবিতে মৌসুমী, সালমান শাহর মৃত্যুসংবাদ শুনে কাঁদছিলেন তিনি, এ সময় সাথে ছিলেন চিত্রনায়ক স্বামী ওমর সানি (ডানে) ও পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার (বামে)

শুটিং করছিলেন মৌসুমী, হঠাৎ জানলেন সালমান শাহ মারা গেছে, এরপর...

তিরিশ বছর আগের এই দিনে ঢাকার এফডিসিতে ‘সুখের ঘরে দুখের আগুন’ সিনেমার শুটিং করছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। হঠাৎ একজন প্রোডাকশন বয় এসে জানায়, চিত্রনায়ক সালমান শাহ মারা গেছেন! আকস্মিক সেই খবর কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না মৌসুমী। খবরটি সত্য কি না, তা জানতে নিজের গাড়ি দিয়ে পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজারকে পাঠান সালমান শাহর বাসায়। এরপর যে খবর তিনি পান, তাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নব্বই দশকের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়িকা।

সালমান শাহ ও মৌসুমী

সালমান শাহর মৃত্যুর ৩০ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯৯৬ সালের এই দিনে রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসায় তাঁর মৃত্যু হয়। সালমানের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা থাকলেও বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। ফলে মৃত্যুর কারণ বা প্রকৃতি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তমূলক মন্তব্য না করেই সেই দিনের স্মৃতি জানিয়েছেন পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে সালমান শাহ ও মৌসুমী

নিজের ফেসবুক পোস্টে গুলজার জানান, সেদিন এফডিসির কড়ইতলায় একটি বস্তির সেট নির্মাণ করে ‘সুখের ঘরে দুখের আগুন’ সিনেমার শুটিং করছিলেন তিনি। ছবিটির পরিচালক ও প্রযোজক ছিলেন গুলজার। এদিকে এফডিসির ৩ নম্বর ফ্লোরের মেকআপ রুমে শুটিংয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মৌসুমী। ঠিক তখনই একজন প্রোডাকশন বয় এসে গুলজারকে জানান, সালমান শাহ মারা গেছেন। খবরটি শুনে প্রথমে কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল না তাঁদের। তবে বিষয়টি শুনে শোকাহত হয়ে পড়েন মৌসুমীও। পরে খবরটির সত্যতা যাচাই করতে নিজের গাড়িটি গুলজারকে দিয়ে সালমানের ইস্কাটনের বাসায় পাঠান তিনি।

স্টুডিওতে মৌসুমী, সালমানের সঙ্গে সোহান

গুলজার তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, মৌসুমীর গাড়ি নিয়ে তিনি ছুটে যান ইস্কাটনে সালমান শাহর বাসভবনে। সেখানে দারোয়ানদের কাছ থেকে জানতে পারেন, সালমান শাহকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে যান তিনি। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, সালমান শাহ মারা গেছেন। এফডিসিতে ফিরে এসে মৌসুমীকে সেই মর্মান্তিক খবর জানান গুলজার। খবরটি শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৌসুমী। উপস্থিত অনেকেই তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেদিন তাঁর জন্য পরিস্থিতি ছিল আরও কঠিন। কারণ, তখন তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর গর্ভে সন্তান ফারদিন।

সালমান শাহ ও মৌসুমী

এর মধ্যে খবর পেয়ে এফডিসিতে ছুটে আসেন মৌসুমীর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী। বিকেলের দিকে খবর আসে, সালমান শাহর মরদেহ এফডিসিতে আনা হয়েছে। তখন গুলজার ও ওমর সানী কান্নায় ভেঙে পড়া মৌসুমীকে সালমানের মরদেহের কাছে নিয়ে যান।

সালমান শাহ ও মৌসুমীর এই সম্পর্কের শুরু অবশ্য আরও কয়েক বছর আগে। নব্বই দশকে ‘আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী’ নির্বাচিত হওয়ার পর টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন মৌসুমী। এরপর ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর।

সালমান শাহ ও মৌসুমী

একই সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সালমান শাহরও। ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। প্রথম সিনেমাতেই দর্শকের মন জয় করেন সালমান ও মৌসুমী। সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তাঁদের জুটি।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির পর সালমান শাহ ও মৌসুমী একসঙ্গে অভিনয় করেন ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘স্নেহ’ ও ‘দেনমোহর’ সিনেমায়। এরপর শাবনূরের সঙ্গে জুটি গড়ে ওঠে সালমানের। ফলে মৌসুমীর সঙ্গে আর নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি তাঁকে।