রায়হান রাফী পরিচালিত ঈদের আলোচিত সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’ নিয়ে দর্শক এবং সমালোচকদের আগ্রহ এখনো তুঙ্গে। ছবিতে চার নায়িকার উপস্থিতি শুরু থেকেই কৌতূহল তৈরি করেছিল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম শবনম বুবলী। তবে মুক্তির পর দেখা যাচ্ছে, আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ছবির আরেক নায়িকা নাজিফা তুষি, যিনি অভিনয় দিয়েও দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।
এদিকে ছবিটি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আরেকটি বিষয়। জানা গেছে, সিনেমাটিতে বুবলী যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, সেই চরিত্রটির জন্য প্রথমে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাসকে। তবে তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি।
অপু বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, গল্পে তাঁর চরিত্রের উপস্থাপন পছন্দ হয়নি বলেই তিনি ছবিটিতে অভিনয় করতে রাজি হননি। চরিত্রের গভীরতা ও উপস্থাপন নিয়ে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তিনি প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেন। পরে সেই চরিত্রেই যুক্ত হন শবনম বুবলী।
তবে এটিই প্রথম নয়, এর আগেও অপু বিশ্বাসের ছেড়ে দেওয়া কাজ করেছেন বুবলী। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে বুবলীর অন্যতম আলোচিত সিনেমা ‘বসগিরি’তেও প্রথমে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন অপু বিশ্বাস। কিন্তু পরে নানা কারণে সেই প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এরপর সেই সিনেমার মাধ্যমেই বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে বুবলীর, যা তাঁকে আলোচনায় আনে। এ ছাড়া ‘রংবাজ’ সিনেমাকে কেন্দ্র করেই অপু বিশ্বাস ও বুবলীর মধ্যে জটিলতার সূচনা হয়েছিল বলে বিনোদন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। ফলে ‘প্রেশার কুকার’ ঘিরে নতুন এই তথ্য সামনে আসায় পুরোনো সেই প্রসঙ্গও আবার আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমা–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, একটি সিনেমার জন্য একাধিক শিল্পীর কাছে প্রস্তাব যাওয়া চলচ্চিত্রজগতে স্বাভাবিক ঘটনা। কোনো শিল্পীর কাছে চরিত্র বা গল্প ভালো লাগলে তিনি কাজটি করেন, না হলে তা ফিরিয়ে দেন—এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। সব মিলিয়ে ‘প্রেশার কুকার’ শুধু গল্প বা অভিনয়ের জন্যই নয়, পর্দার বাইরের নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও আলোচনায় রয়েছে। আর এ আলোচনার কেন্দ্রে বারবার উঠে আসছে অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলী ও নাজিফা তুষির নাম।
শবনম বুবলী ও নাজিফা তুষি ছাড়া রায়হান রাফি পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন স্নিগ্ধা চৌধুরী ও মারিয়া শান্ত। নায়কবিহীন এই সিনেমাটি চার নারীর সংগ্রামের গল্পকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে। জানা গেছে, ঢাকা শহরের নাগরিক জীবনের চাপ, সামাজিক দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম—এই বাস্তবতার ভেতর দিয়ে চার নারীর ভিন্ন ভিন্ন যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমায়। ছবিটি নির্মিত হয়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে। প্রযোজনা করছেন ফরিদুর রেজা সাগর ও রায়হান রাফী।