
খায়রুল বাসার, সুনেরাহ্ বিনতে কামাল, জান্নাতুল ঐশী, সাদিয়া আয়মান, তাসরিফ খান, মাহতিম শাকিব—আজ প্রথমবারের মতো জাতীয় কোনো নির্বাচনে ভোট দেবেন এই ছয় তারকা। কেমন দেশ চান তাঁরা? প্রার্থীদের কাছে তাঁদের প্রত্যাশার কথা শুনলেন মনজুরুল আলম
খায়রুল বাসার, অভিনয়শিল্পী
সবারই প্রত্যাশা ছিল উৎসবমুখর নির্বাচন। সেটা হচ্ছে। দেখছি ঢাকা শহর খালি। সাধারণ মানুষ আগ্রহ নিয়ে ভোট দিতে যাচ্ছে। আমি ময়মনসিংহের ভোটার। আমার চাওয়া, নেতাদের মধ্যে গালাগালি, কাদা–ছোড়াছুড়ি বন্ধ হোক, তাদের চালচলন সভ্য হোক, তাদের আচরণ দেখে যেন স্বস্তি পাই। নির্বাচিত নেতাদের কাছ থেকে আমরা যেন শিখতে পারি। অতীতের কালচার যদি আবার ফিরে আসে, মানুষ যদি অস্বস্তিতে থাকে, তাহলে কোনো পরিবর্তনই আসবে না। এক মুখে দুই কথা শুনতে চাই না। কারও সমালোচনা নয়, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশ ও জনগণের কথা ভাববে, সংসদে স্পষ্টভাবে বলবে, সেটাই প্রত্যাশা।
সুনেরাহ্ বিনতে কামাল, অভিনয়শিল্পী
আমি ঢাকার ভোটার। আগে ভোট দেওয়া হয়নি। এবার প্রথম ভোট দেব। সত্যি বলতে, আমি তো রাজনীতির এত কিছু বুঝি না। তবে আমার দেশটা ভালো থাকুক, সেটা চাই। দেশের মানুষ নাগরিক অধিকার বুঝে পাবে, সেটাই প্রথম চাওয়া। একজন সাধারণ নাগরিকের জীবনে স্বস্তি আসুক, মানুষ মানসিকভাবে শান্তিতে থাকুক, সেটাই প্রত্যাশা। সব জায়গায় শৃঙ্খলা ফিরুক। সৃজনশীলসহ প্রতিটা সেক্টর এগিয়ে চললেই দেশটা এগিয়ে যাবে। সুন্দরভাবে দেশ এগিয়ে চলবে, সেটাই প্রত্যাশা।
জান্নাতুল ঐশী, চিত্রনায়িকা
পিরোজপুরে বাড়ি হলেও আমি ঢাকার ভোটার। ভোট নিয়ে খুবই আগ্রহী। বড় কোনো সমস্যা না হলে অবশ্যই ভোট দেব। এই ভোটের মধ্য দিয়ে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা পাক, সেটা চাই। অনেক দিন ধরেই দেখছি, দেশে অস্থিরতা লেগে আছে। এই অস্বস্তি থেকে দেশটাকে বের করা দরকার। একটা নির্বাচিত সরকারের কাছে আমাদের বহু প্রত্যাশা নেই। আমাদের স্বস্তি দরকার। শান্তি দরকার। ভালো কর্মপরিবেশ দরকার। এগুলোই আমার চাওয়া। আমাদের সংবিধানমতো দেশটা চলুক, সেটাই চাই। আমাদের দেশে অনেক মানুষ বেকার। এসব মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিতে নতুন সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে, সেটা প্রত্যাশা করছি।
সাদিয়া আয়মান, অভিনয়শিল্পী
আমি আমার এলাকার ভোটার। আমার বাসা বরিশাল। প্রথমত, নিরাপদ দেশ চাই। সবাই যেন নিরাপদে থাকেন, সবাই যেন নিজেদের মতো করে নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, এগুলো আমার প্রত্যাশা। এ ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক হয়। আমার মনে হয়, সব মানুষ এ প্রত্যাশাই করবে। দিন শেষে আমরা তো মানুষ। আর আমার পেশাগত কাজে কখনোই হ্যাম্পার হয়নি। আশা করছি সামনেও হবে না।
তাসরিফ খান, সংগীতশিল্পী
সুন্দর একটা ভোট হোক, সেখানে জীবনের প্রথম ভোটটা দিতে চাই। ভোট নিয়ে প্রত্যাশার কথা বলতে গেলে আমার একটি ভয় হয়, ভোট সুষ্ঠু হবে তো? আর হলেও ফলাফল মানবে তো। তবে ভোটের পর যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। বৈষম্য যেন দূর করে। তারা জনগণকে দেশের মালিক মনে করে একসঙ্গে কাজ করবে, সেটাই প্রত্যাশা। আশা করব, যারাই ক্ষমতায় আসুক, জনগণের সঙ্গে আর ধোঁকাবাজি করবে না। অতীত থেকে তারা শিক্ষা নেবে। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা চাই না। দখলদারত্বের রাজনীতি চাই না। দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, ৫ আগস্টের পর আমাদের বিশ্বাস কেউই অর্জন করতে পারেনি। ৫ আগস্ট আমরা বহু প্রাণের বিনিময়ে নতুন দেশ পেয়েছিলাম। যে ন্যায়ভিত্তিক সমাজের প্রত্যাশা আমাদের ছিল, এবার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেটা প্রতিষ্ঠা পাবে আশা করছি।
মাহতিম শাকিব, সংগীতশিল্পী
আমি ঢাকার ভোটার। প্রথমত, একটু শান্তি চাই। সবার মধ্যে একটা অশান্তি কাজ করছে। আশপাশের যেদিকেই তাকাই, সবাই অস্থির। এটার অবসান চাই। দ্বিতীয়ত, সবার মধ্যে স্বাধীনতাটা জরুরি। আমি কোনো স্টেজে উঠে গান গাইছি, সেখানে সামনে এসে যাঁরা শুনছেন, তাঁরা স্বেচ্ছায় সেখানে এসেছেন। কিন্তু কখনো কখনো আমরা কনসার্ট বন্ধ হয়ে যেতে দেখেছি। স্টেজে বাইরের অনেককে ইন্টারফেয়ার করতে দেখেছি। এখন আমাদের যাঁরা ডাকেন, তাঁরা পয়সা খরচ করে নিয়ে যান। এ জায়গায় স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বাধীনতা দরকার। এটা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া আমার এলাকায় রাস্তা সুপ্রশস্ত। কিন্তু অর্ধেকের বেশি রাস্তা বাস, ট্রাক, রিকশার দখলে। এ ব্যাপারগুলো যেন সহজে সমাধান করা যায়, সেটা চাওয়া।