
নতুন সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠনের এক সপ্তাহও পেরোয়নি, পদত্যাগ করেছেন বোর্ডের অন্যতম সদস্য খিজির হায়াত খান। গত সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন এই চলচ্চিত্র পরিচালক। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে এটি তাঁর দ্বিতীয় দফা পদত্যাগ। তিনি বলেন, বোর্ডে নাম রাখতে তাঁর কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি।
সার্টিফিকেশন বোর্ডের অন্তত তিনজন সদস্য গতকাল প্রথম আলোকে জানান, প্রজ্ঞাপনে নাম দেখার পর বিষয়টি জানতে পেরেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে তাঁদের কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি, আলোচনাও করা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সার্টিফিকেশন বোর্ডের এক সদস্য প্রথম আলোকে জানান, আগের বোর্ডেও সম্মতি ছাড়াই তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল। তিনিও পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত করেননি। এই বোর্ডেও সম্মতি ছাড়াই তাঁর নাম দেওয়া হয়েছে। সেই সদস্য হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রজ্ঞাপন জারির পর আমার নাম দেখে অবাক হয়েছি। নাম দেওয়ার আগে আমার সঙ্গে আলাপ করে নেবে না?’
সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠনে সমন্বয়ের অভাব দেখছেন বোর্ডের আরেক সদস্য, আগের বোর্ড থেকে একজন (খিজির হায়াত খান) পদত্যাগ করেছেন। পরের বোর্ডে নাম দেওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে আলাপ করে নেবে না?
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আবদুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে জানান, বোর্ড গঠনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের কোনো ভূমিকা নেই। বিষয়টি (তথ্য ও সম্প্রচার) মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (চলচ্চিত্র-২) শারমিন আখতারকে ফোন করা হলে তিনি উপসচিব (চলচ্চিত্র-১) তসলিমা নূর হোসেনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তসলিমা নূর হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গঠিত সেন্সর বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছিলেন আশফাক নিপুন। তিনিও সম্মতি ছাড়াই সেন্সর বোর্ডে তাঁর নাম যুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন করে সরকার। সেই বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছিলেন খিজির হায়াত খান।
গত সোমবার দ্বিতীয় দফায়ও পদত্যাগ করলেন। খিজির হায়াত খানের পদত্যাগপত্র পেয়েছেন জানিয়ে আবদুর রহমান বলেন, সেটি আজ (গতকাল সোমবার) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।