নান্দীমুখের ৩৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে হাবিব তানভির স্মারক বক্তব্য পাঠ করেন আশিস গোস্বামী। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারি হলে। ছবি: জুয়েল শীল
নান্দীমুখের ৩৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে হাবিব তানভির স্মারক বক্তব্য পাঠ করেন আশিস গোস্বামী। গতকাল চট্টগ্রাম নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারি হলে। ছবি: জুয়েল শীল

‘সাধারণ জনতার ভাষাকে মঞ্চে তুলে এনেছিলেন তিনি’

হাবিব তানভির ছিলেন ভারতীয় থিয়েটারের একজন প্রবাদপুরুষ। তাঁর হাত ধরে ভারতীয় থিয়েটার আন্তর্জাতিক দরজায় পৌঁছেছে। একইভাবে নিজের শিকড় খুঁজে নিতে শুরু করেছে। এই কাজে কে এন পানিক্কর, রতম থিয়াম, কানহাইলাল—এসব নামের পাশে উজ্জ্বল একটি নাম হাবিব তানভির।

বুধবার সন্ধ্যায় ‘হাবিব তানভির: আন্তর্জাতিকতা থেকে সহজিয়া’ শিরোনামে স্মারক বক্তৃতায় এসব কথা বলেন নাট্য-গবেষক আশিস গোস্বামী। এ সময় উর্দু, হিন্দি নাট্যকার, থিয়েটার পরিচালক, কবি ও অভিনেতা হাবিব তানভিরের জীবন ও সৃজনশীল কাজ নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে এই স্মারক বক্তৃতা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয় গত সোমবার। থিয়েটারজগতের তিন মহারথী তাপস সেন, শোভা সেন ও হাবিব তানভিরকে নিয়ে এ আয়োজন করেছে নাট্য সংগঠন নান্দীমুখ। নাট্য সংগঠনটির ৩৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়। গতকাল ছিল এ আয়োজনের শেষ দিন।

স্মারক বক্তৃতার শুরুতে হাবিব তানভিরের জীবনী তুলে ধরেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অসীম দাশ। ১৯২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ ভারতের ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরে জন্মগ্রহণ করেন হাবিব তানভির। ১৯৪৫ সালে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ প্রথম বর্ষে কিছুদিন পড়াশোনা করে চলে যান মুম্বাইয়ে। বিভিন্ন নাট্যদলের কাজ করার পর স্ত্রী মণিকা মিশ্রর সহযোগিতায় গ্রাম ও শহরের মেলবন্ধনে গড়ে তুলেছিলেন নিজের দল ‘নয়া থিয়েটার’। এ দলের সদস্যরা ছিলেন ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা আর লোকশিল্পী। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ হলো আগ্রা বাজার, শতরঞ্জ কে মোহরে, লালা সোহরত রায় ইত্যাদি। ২০০৯ সালের ৮ জুন এই নাট্যব্যক্তিত্বের জীবনযাত্রা শেষ হয়।

আলোচনায় আশিস গোস্বামী বলেন, উর্দু সাহিত্যে সাধারণ জনতার ভাষায় লিখতেন কবি নাজির আকবরবাদী। তাঁর শায়েরির ভাষাকে হাবিব তুলে আনলেন তাঁর নাটক আগ্রা বাজার–এ। ৭২ জন অভিনেতাকে নিয়ে তিনি তুলে এনেছিলেন সবজি বিক্রেতা, পকেটমার, মাদারীর খেল, বাঈজির নখর বাজারের বাস্তব চিত্র। সাধারণ জনতার ভাষাকে মঞ্চে তুলে এনেছিলেন তিনি।

এর আগে সোমবার আলোকসম্পাতশিল্পী তাপস সেনকে নিয়ে ‘তাপস সেন: নিশ্চিন্ত আশ্রয়’ শিরোনামে বক্তব্য দেন নাট্য-গবেষক আশিস গোস্বামী। মঙ্গলবার অভিনয়শিল্পী শোভা সেনকে নিয়ে ‘অভিনয়শিল্পে শোভা সেন’ শিরোনামে বক্তব্য দেন নাট্য-গবেষক অনীত রায়। আয়োজনের তিন দিন এই তিন কিংবদন্তির ওপর নির্মিত তিনটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।